ক্রিকেট (Cricket) খেলা-ধুলা

নির্বাচকদের মেয়াদ বাড়লেও বাদ পড়ছে একজন

জাতীয় দলের নির্বাচকদের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত ৩০ জুলাই বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি। মেয়াদ বাড়লেও জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন একজন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে আর থাকছেন না সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। তবে তার জায়গায় নতুন কাউকে এখনই নিচ্ছে না বিসিবি।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের নির্বাচক থাকছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর জুনে গঠিত দুই স্তরের জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য ছিলেন ছয় জন। তিন জন নির্বাচক, হেড কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে, জাতীয় দলের ম্যানেজার ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এই প্যানেলে। সাজ্জা

দ আহমেদ শিপন বাদ পড়ায় নির্বাচক প্যানেলের সদস্য সংখ্যাও কমছে।
জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল আকরাম খান বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এটা জানিয়ে দিব। আমরা মিটিং করে এটা ঠিক করবো।’
নির্বাচক কমিটিতে আপাতত দুই সদস্যই থাকছেন। বিসিবির এ পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেল বেশ বড়। নির্বাচকরা, কোচ, ম্যানেজার, আমিও আছি। এখন সামনে নির্বাচক কমিটিতে দু’জনও থাকতে পারে। আবার পরে বাড়াতেও পারি।’
বাদ পড়া সাজ্জাদ আহমেদ শিপন সম্পর্কে ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে আগের জায়গায় চলে যাবে।’
গত বছর বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক কমিটি থেকে জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। দীর্ঘদিন বয়সভিত্তিক দল নিয়ে কাজ করেছেন এ সাবেক ক্রিকেটার। জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে এক বছর কাটানোর পর আবার আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
গতকাল সাজ্জাদ আহমেদ শিপন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জাতীয় দল এখন চট্টগ্রামে। দল ঢাকায় আসার পর বলতে পারব। আমি যতটুকু জানি, আলোচনা চলছে।’ বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তাকে। অবশ্য বয়সভিত্তিক পর্যায়েই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বাংলাদেশের হয়ে দুটি ওয়ানডে খেলা এ সাবেক ক্রিকেটার।
নিজের পছন্দের জায়গায় ফিরতে চাইছেন নাকি প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বলা যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট কাজের জায়গা থাকলে আমি কাজ করতে পছন্দ করি। তাছাড়া বয়সভিত্তিক বিভাগ থেকেও হয়তো আমাকে চাইছে।’
নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তনের আভাস বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গত ৩০ জুলাই বোর্ড সভার পরই দিয়েছিলেন। বোর্ড সভার পর তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমরা এক বছর বাড়িয়েছি। সভায় আলাপ-আলোচনা হয়েছে, একজন পরিবর্তন হতে পারে। জুনিয়র থেকে সিনিয়র, আর সিনিয়র থেকে জুনিয়র করতে পারি আমরা। তাদের সাথে কথা বলতে হবে। বোর্ড মনে করছে নতুন একজন যদি আনা শুরু করি জুনিয়র লেভেল থেকে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’
বোর্ড সভাপতির কথার পর সাজ্জাদ আহমেদ শিপনের বয়সভিত্তিক পর্যায় ফিরে যাওয়া এবং সেই জায়গা থেকেই এহসানুল হক সেজানকে জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটিতে আনার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। যদিও এখনই জাতীয় দলের জন্য তৃতীয় নির্বাচক নিয়োগ দিচ্ছে না বিসিবি।
তবে নান্নু-হাবিবুলের সঙ্গী হতে ইতোমধ্যে অনেকেই চেষ্টা-তদবির করছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আইসিসি সহযোগী দেশের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করা এক সাবেক ক্রিকেটারের দৌড়-ঝাঁপের কথাই জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।