অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

নিজ সন্তানকে ৫৫ ছুরিকাঘাতে হত্য করে মা!

নিজের ৮ বছরের সন্তানকে ৫৫ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে এক বিকারগ্রস্থ মা। অস্বাভাবিক এ ঘটনা ঘটেছিল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। বর্তমানে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার চলছে।

হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ওই মা। ঘাতক মায়ের নাম জডি কউসো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লোয়া অঙ্গরাজ্যের উইনেবেগো নামক স্থানে বসবাস করেন। উইনেবেগো কাউন্ট্রি কোর্টে তার বিচার কার্যক্রম চলছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মা ও ছেলে দুজনই একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে ছেলে থমাস তার মাকে বলেন, তার আশপাশে কী যেন ঘোরাঘুরি করছে। ছেলের এ কথা শোনার পর এদিক ওদিক তাকাতে থাকেন মা। এরপর রান্নাঘর থেকে চাকু এনে ছেলের গায়ে আঘাত করতে থাকেন। পর পর ৫৫ বার চাকুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় ৮ বছর বসয়ী ছেলের শরীর। জীবন বাঁচাতে কয়েকবার ছুটে পালানোর চেষ্টাও করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত পালাতে সমর্থ হয়নি শিশুটি। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ছেলেটি।

এ ঘটনার পর নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন জডি কউসো। গত মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির দিন ছিল। শুনানিতে ওই মা জানান, তিনি তার সন্তানকে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার উপর তখন শয়তান ভর করেছিল। তাই আমি আমার সন্তানকে ৫৫ বার ছুরির আঘাতে হত্যা করি। ওই সময় আমার মনে হয়েছিল ইশ্বর আমার সন্তানকে হত্যা করার জন্য আমাকে আদেশ দিয়েছেন।’

তবে ঘাতক মায়ের একথা বিশ্বাস করছেন না আইনজীবীরা। কারণ সে একজন মানসিক রোগী ছিলেন তার কোনো প্রমাণ নেই। আর অতীতে তার মানসিক বিকারগ্রস্থ হওয়ার কোনো রেকর্ডও নেই। আবার তার দাবি পুরোপুরি ফেলেও দিতে পারছেন না আদালত। তাই রায় দিতে বেকায়দায় পড়েছেন বিচারক। কারণ যদি তখন তিনি বিকারগ্রস্ত বা মানসিক রোগী থাকেন তাহলে তিনি অবশ্যই অপরাধী হবেন না। আর যদি তখন তিনি সুস্থ থাকেন তাহলে অপরাধী হবেন।

এদিকে বাঁচার জন্য ঘাতক মা জডি কউসো বিচারের দায়িত্ব জুরি বোর্ডকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি মনে করেন, জুরি বোর্ড গঠিত হলে তার প্রতি তারা সুবিচার করবেন। তাই বিচারক লউরি বিচারের জন্য একটি জুরি বোর্ড গঠন করেছেন।

জুরি বোর্ড যদি দেখেন ঘটনার সময় তিনি মানসিক রোগী ছিলেন তাহলে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সুস্থ না হবেন ততক্ষণ তাকে সেখানে রাখা হবে। পরে তিনি মুক্তও হতে পারেন।

আবার যদি দেখা যায়, তিনি তখন সুস্থ থেকে বুঝে শুনেই সন্তানকে হত্যা করেছেন তাহলে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি এমন দেখা যায়, তিনি যখন হত্যা করেছিলেন তখন মানসিক রোগী ছিলেন না কিন্তু সন্তান হত্যার পর বা রায়ের পর মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন তাহলে তাকে কারাদণ্ডের সঙ্গেই মানসিক চিকিৎসা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হবে।

এখন বিচারকার্য মুলতবি রাখা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি আবার বিচার শুরু হবে। তখন তার চূড়ান্ত রায় জানা যাবে।

ভিডিওঃ চাঁদে অদ্ভুত আওয়াজ যা গোপন ছিল চার দশকের বেশি (ভিডিওসহ)

Add Comment

Click here to post a comment