গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ মিলল সেপটিক ট্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের বিপ্রবর্তা এলাকায় নিখোঁজের ৭ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 বিপ্রবর্তা এলাকার আব্দুর রশীদের ছেলে আতিকুর রহমান (১৫) ৯ ডিসেম্বর রাতে পাশের দেওয়ান ব্রিকস নামের ইটভাটার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এক সপ্তাহ খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে ওই ইটভাটা সংলগ্ন একটি বাংলো বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব হোসেন জানান, একটি বাংলো বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে নিখোঁজ আতিকের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল আতিক। পরীক্ষার পর সে স্থানীয় ইটভাটা দেওয়ান ব্রিকস এ কাজ করত। ৯ ডিসেম্বর কাজে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। এরপর ইটভাটার চার যুবককে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়। তারা একেকবার একেক তথ্য দিলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নিহতের স্বজনরা। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ভাটার ট্রাকচালক আব্দুল আলিম, শ্রমিক খোরশেদ, শাহিনুর রহমান ও শফিকুর রহমানকে আটক করে পুলিশ।

আটক শাহীনুর পুলিশকে জানিয়েছেন, ঢাকায় ইটের চালান নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাকের ডালার আঘাতে মারা যায় আতিক। পরে আতিকের লাশ গাজীপুর এনে ইটভাটার মালিক ইমরান দেওয়ানের কাছে হস্তান্তর করেন তারা। কিন্তু মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর না করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলা দেওয়া হয়।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ট্রাকের গায়ে রক্তের চিহ্ন থাকায় ট্রাকটি জব্দ করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আটক চারজনের মধ্যে শাহীন নামে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইটভাটার মালিকসহ জড়িতদের ধরতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Add Comment

Click here to post a comment