খেলা-ধুলা

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বাংলাদেশকে ভোগাতে পারেন যারা

বাংলাদেশের মাটিতে মাশরাফিদের শক্তিশালী মানলেও নিজেদের দেশে টাইগারদের অতটা পাত্তা দিচ্ছে না নিউজিল্যান্ড। দেশটির পত্রপত্রিকায় বরং খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিউই বোর্ড থেকে নিয়মিত সদস্যদের মধ্যে থেকে কাউকে বিশ্রাম না দেয়ায় দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বরং প্রশ্ন তুলেছে।

বাংলাদেশও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়ে বেশ সতর্ক। সেখানে মানিয়ে নিতে অস্ট্রেলিয়ায় আগেভাগে দশদিনের ক্যাম্প করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যে দল ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে এমন সাতজন আছেন, যারা মাশরাফি-মুশফিকদের চিন্তার ভাঁজ চওড়া করতে পারেন।

মার্টিন গাপটিল: চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফিতে কিউইরা ৩-০ ব্যবধানে হারলেও মার্টিন গাপটিল বেশ ছন্দে ছিলেন। সিডনিতে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চিন্তায় ফেলে দেন। অস্ট্রেলিয়ার করা ৩২৪ রানের জবাবে তার ব্যাট কথা বলছিল দারুণভাবে। শেষ পর্যন্ত ১০২ বলে ১১৪ রান করে থামেন তিনি। ধীরে-ধীরে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডও। গাপটিল দ্বিতীয় ম্যাচেও বেশ ভালো খেলছিলেন। ৪৫ করে সাজঘরে ফেরেন। তার এই ফর্ম বাংলাদেশি বোলারদের বিপাকে ফেলতে পারে।

জিমি নিশাম: প্রথম ম্যাচে ৩৪ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে রস টেইলরের অভাব দারুণভাবে পূরণ করেন। ৮৩ বলে ৭৪ করে দলকে পথে রাখার চেষ্টা করেন। হাতে ব্যথা পাওয়ায় তৃতীয় ম্যাচে তার মাঠে নামা হয়নি। কিন্তু তার ব্যাটিং বলে গেছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে পারেন।

ট্রেন্ট বোল্ট: কিউইদের এই সময়ের সেরা বোলার। জনপ্রতি ৩০ রান খরচ করে তিন ম্যাচে ছয় উইকেট নেন। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়াকে ভালোই ভোগান। ডেথ ওভারের আগ পর্যন্ত সিডনিতেও দারুণ ছন্দে ছিলেন। সিমিং উইকেটে বাংলাদেশি টপ অর্ডারদের বিপদের কারণ হতে পারেন।

কেন উইলিয়ামসন: অভিজ্ঞ এই অধিনায়ক ভাগ্যের দোষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই টস হারেন। নিজেদের সর্বশেষ এই সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৩৭৮ রানের পিছনে ছুটতে যেয়ে ৮১ রান করেন। দারুণ ব্যাট করতে করতে স্টার্কের বলে হ্যাজেলউডের হাতে প্রথমস্লিপে ধরা পড়েন। তৃতীয় ম্যাচে লেগস্ট্যাম্পের বলে আম্পায়ারের ‘অবাক সিদ্ধান্তে’ এলবি হন। শুধু প্রথম ম্যাচেই যা একটু নড়বড়ে ছিলেন। কিন্তু অধিনায়কত্বে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে নজর কাড়েন। বাংলাদেশের বিপক্ষেও স্বাগতিকদের বড় ভরসার নাম তিনি।

টিম সাউদি: অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের একটিতে ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৩ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। তৃতীয় ম্যাচে উইকেট না পেলেও কিপটে বোলিং করেন। ১০ ওভারে ৪৫ রান খরচ করেন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ভোগানোর সব যোগ্যতাই আছে এই মিডিয়াম ফাস্ট বোলারের।

নেইল ব্রুম: ছয় বছর জাতীয় দলে ফিরেছেন। ২০১৫ সালে ডার্বিশায়ারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করা ব্রুম রস টেইলরের জায়গায় অর্থাৎ চার নম্বরে নামতে পারেন। টেইলর বাঁ চোখের সার্জারি করার পর বিশ্রামে আছেন। ব্রুম ২০০৯’র জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের মার্চ পর্যন্ত ২২টি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৭.২২ গড়ে মোট রান ৩৩৩। দশটি টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০ ওভারের ম্যাচে দেখা যায় তাকে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে ব্রুমের ব্যাট হেসেছে ধারাবাহিকভাবে। প্লাঙ্কেট শিল্ডের হয়ে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী তিনি। ৫৯ গড়ে সাত ইনিংসে মোট রান ৩৫৪। তারদিকেও চোখ থাকবে মাশরাফিদের।

লুক রনচি: ২০১৫ সালটা রনচির জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সাদামাটা ছিলেন। এরপর চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফির সময় বাদ পড়েন। তবে গত বৃহস্পতিবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত শতক হাঁকান। এছাড়া ক্যান্টবেরির বিপক্ষে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলে আরেক ম্যাচে দলকে জেতান। সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত এমন ধারাবাহিকতার পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। রনচিকে নেয়ার আরো একটি কারণ তিনি ভালো কিপিং করেন।

নিউজিল্যান্ডের ১৩ সদস্যের দল: কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ট্রেন্ট বোল্ট, নেইল ব্রুম, লুকি ফার্গুসন, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, মার্টিন গাপটিল, ম্যাট হেনরি, টম লাথাম, কলিন মুনরো, জেমস নিশাম, লুক রনচি, মিচেল স্যান্টনার ও টিম সাউদি।

ভিডিওঃ ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ সিনেমায় ভিন্ন লুকে আমির [ভিডিও]

Add Comment

Click here to post a comment