গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাইফ স্টাইল

নারী শরীর সম্পর্কে পুরুষদের যে কয়টি ভুল ধারণা থাকে

ভুল ধারণা থাকে পুরুষদের- শিক্ষা-অশিক্ষা নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু আজও বহু পুরুষই বিশেষ ক্ষেত্রে কম জানে। কারণ বিশেষ মুহুর্তে তাদের সঠিক শিক্ষার অভাব। আজও আমাদের দেশে এর ঠিকঠাক চল নেই।

ফলে হয় বড়দের মুখে শুনে, নয়তো ভুল তথ্য সম্বলিত বই পড়ে পুরুষরা গোড়ায় তৈরি করে দৈহিক চাহিদার ধারণা। এই ধারণা তৈরির সময় নারীদেহ সম্পর্কে বহু ভুল কথা মনে গেঁথেই বেড়ে ওঠে পুরুষরা। পরে সে ভুল ভাঙে ঠিকই। কিন্তু তাতে দৈহিক শিক্ষার অভাবটা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না।

তা কোন কোন ভুল ধারণা পুরুষের মনে বাসা বেঁধে থাকে?

১) মহিলাদের শরীরে কোনও কেশ নেই। বহু পুরুষেরই প্রাথমিক ভাবে এ ধারণা থাকে। হরমোনের কারণেই পুরুষ শরীর রোমশ। নারীশরীর সে ভাবে রোমশ নয়। শরীরের যে অঙ্গগুলিতে রোম দেখা যেতে পারে, সেখান থেকে তা নির্মূল করারও আধুনিক পদ্ধতির দ্বারস্থ হন মহিলারা।

ফলত ধারণা গড়ে ওঠে যে, মহিলাদের শরীরে পিউবিক হেয়ার নেই। বস্তুত তা একেবারেই অর্থহীন। উলটে, দৈহিক তৃপ্তির ক্ষেত্রে এই কেশের গুরুত্ব আছে। ভুল ধারণার কারণে এই পুরো বিষয়টিতেই অন্ধকারে থাকে অধিকাংশ পুরুষ।

২) নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তারা মেয়েদেরও এক ছাঁচে ফেলে দেন। কিন্তু সত্যিই সকল মেয়েরা এসব পছন্দ করে না। এতে তাদের নানা অসুবিধাও হয়।

সে অসুবিধার কথা পুরুষরা জানেন না বলেই, বক্ষযুগল নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে পুরুষরা এমন অনেক কাজ করে ফেলেন, যাতে মহিলারা পরবর্তীকালে বিপাকে পড়েন।

৩) আবার অনেক পুরুষের ধারণা, প্রত্যেক মহিলারই বোধহয় যে কোনও সময় স্তনদুগ্ধ ক্ষরিত হয়। হরমোনাল চেঞ্জ, সন্তান হওয়ার পর যা যা নারী শরীরে সংঘটিত হয়, তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা থাকে না পুরুষদের।

স্তনদুগ্ধ নিয়েও কোনও জ্ঞান তাদের সামনে তুলে ধরা হয় না। ফলে এই অস্বাভাবিক একটা ধারণা পুরুষদের মনে বাসা বেঁধে থাকে।

৪) নারীর ঋতুকালীন যন্ত্রণা নিয়েও পুরুষের বহু ভুল ধারণা থাকে। প্রথমত, সংস্কারের কারণে এটা নিয়ে কোনও আলোচনাই হয় না পুরুষদের সামনে। দক্ষিণ ভারতে তো প্রথা অনুযায়ী, এই সময় নারীরা পুরুষদের মুখদর্শন পর্যন্ত করেন না।

ফলে এই বিষয়টি নিয়ে পুরুষরা রীতিমতো ধোঁয়াশায় থাকেন। অথচ পরবর্তীতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে এই চক্র সম্পর্কে নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও সম্যক ওয়াকিবহাল থাক উচিত। সেই জায়গাতে অনেকটাই পিছিয়ে থাকেন পুরুষরা।