অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

নাটোরে পুলিশের ফাঁদে জ্বীনের বাদশা, অত:পর

জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে রফিকুল ইসলাম (৩৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোরের গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোরে তাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গর্ন্ধববাড়ী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। রফিকুল ইসলাম একই এলাকার আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার জানান, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল মধ্যপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম জ্বীনের বাদশা পরিচয় দেয়। পরে তাকে বিভিন্নভাবে জানানো হয় সে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্টি হয়ে ৭ হাড়ি সম্পদ দান করেছে। এছাড়াও সে দুনিয়ার বাদশাহী হবে, আখেরাতে জান্নাত পাবে এমন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

বিভিন্ন সময় তাকে সৌদি আরবে গিয়ে উট কোরবানী সহ স্বর্ণের হাড়িতে ভোগ দেয়ার কথা বলে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬শত ২০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া আশরাফুল কে বিশ্বাস করানো জন্য জ্বীনের বাদশা মানুষ রূপে তার বাড়ীতে এসে দুটি মুর্তি ও একটি জায়নামাজ প্রদান করে।

প্রতারণার শিকার হওয়ার পরে আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নাটোরের নলডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানায়। নাটোরে পূর্বে এমন আরো কয়েকটি ঘটনা থাকায় গোয়েন্দা পুলিশ প্রতারক চক্রকে আটকের জন্য মাঠে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় মোবাইল ফোন ট্যাকিং করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গর্ন্ধববাড়ী গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় প্রতারক চক্রের আরো ৩সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে প্রতারণা করার দুটি মুর্তি ও একটি জায়নামাজ ও পঞ্চাশ হাজার টাকা উদ্বার করা হয়।

পালাতক আসামীরা হলেন- মৃত ফজেলের ছেলে মো. মনোয়ারুল ইসলাম (৩৫), মৃত আয়নুদ্দি ছেলে মো. কানু (৩২) ও নছিম কানুনের ছেলে শাহীন (৩৩)।

এ ঘটনায় নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ০৭ তারিখ ১৫/১১/২০১৭ ইং ধারা-৪০৬/৪২০/২০১/১০৯ দঃ বিঃ।