জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রাজশাহী

নাটোরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ এবং জেলা ছাত্রলীগের সভপতিসহ তিন জন আহত হয়েছেন।

নাটোরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজন

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে নাটোর শহরের বড়গাছা ছোট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ নাটোর এন এস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন রিয়নকে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জেমস ও ছাত্রলীগ কর্মী রুবেলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সুত্র জানায়, ট্রাক ব্যবসায়ী বড়গাছা এলাকার ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত মনিরুজ্জামান সেন্টুর ড্রাইভারের কাছ থেকে সোমবার মধ্যরাতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জেমসের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ট্রাকটি ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে মনিরুজ্জামানের স্ত্রী রোজী বেগম প্রতিবাদ করলে জেমস তাকে ধাওয়া করে। এসময় রোজীর আত্মীয় নাটোর এসএস সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রিয়ন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে রিয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়াসহ জেমস ও ছাত্রলীগ কর্মি রুবেল আহত হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের নাটোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জেমস ও রুবেলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ট্রাক মালিক মনিরুজ্জামান সেন্টুর স্ত্রী রোজী বেগম অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন পূর্বে ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জেমস তার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরে গত সোমবার রাতে তার ড্রাইভারের কাছ থেকে জেমস, রুবেল, রাজিব ও মুকুল ট্রাকটি ছিনিয়ে নেয়। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে জেমসের কাছে ট্রাকের চাবি চাইলে সে পিস্তল বের করে তার (রোজীর) প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ সময় তার চিৎকারে ভাতিজা রিয়ন এগিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে জেমস রিয়নকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য বর্তমানে তিনি থানায় রয়েছেন।

অপরদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জেমস জানান, তিনি মনিরুজ্জামান সেন্টুর কাছে ১০ লাখ টাকা পান। ওই টাকা চাইতে গেলে উল্টো রিয়ন ও তার সঙ্গীরা তাদের ওপর হমালা চালিয়ে মারধর করে আহত করে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম বলেন, এটি ব্যবসাজনিত পারিবারিক বিরোধ। এই ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

নাটোর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ