অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি কনটেইনার জমেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

বিজনেস ডেস্ক : ঈদের ছুটির পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারের চাপ বেড়েই চলেছে। গতকাল সোমবার কনটেইনার ও জাহাজজট সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমদানি পণ্য খালাসের হার দ্রুত না বাড়লে এ জট সহনীয় অবস্থায় আসবে না বলে জানান বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সোমবার সকালে তৈরি বন্দরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সকাল পর্যন্ত বন্দর জেটিতে ভেড়ানোর অপেক্ষায় সাগরে অবস্থান করছিল ২১টি কনটেইনার জাহাজ, যা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি। আর আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৩ হাজারটি, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি।

বন্দর চত্বরে ধারণক্ষমতার চেয়ে কনটেইনারের সংখ্যা বেশি হলে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। একটি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দর চত্বরে রাখা এবং সেখান থেকে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রমও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। এতে করে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ধীরগতিতে হয়।

ঈদের ছুটির পর গতকাল সকাল পর্যন্ত কনটেইনার খালাসের হার স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি। গত সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কনটেইনার খালাস হয়েছে ২ হাজার ৪০৩টি। স্বাভাবিক সময়ে খালাস হয় সাড়ে তিন হাজার। খালাসের হার কমলেও এ সময় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো হয়েছে দিনে গড়ে সাড়ে তিন হাজারটি। ফলে কনটেইনারের স্তূপ জমেছে বন্দর চত্বরে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন বন্দরের পুরো কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো কনটেইনার খালাস হয়নি। ঈদের ছুটির আগের দিনও খালাস কমে দাঁড়ায় ৩৪৪ কনটেইনারে। গতকাল পর্যন্ত ছয়দিনে কনটেইনার খালাস হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৫টি। স্বাভাবিক সময়ে ছয়দিনে খালাস হওয়ার কথা ১৮ থেকে ২১ হাজার কনটেইনার।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে পাঁচ-ছয়দিনের লম্বা ছুটি ছিল উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোয়। গত রোববার থেকে কারখানা খুলতে শুরু করেছে। কারখানা বা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন গত দুই দিন থেকে। এ হিসেবে পণ্য খালাসের হার বাড়বে দু-একদিনের মধ্যে। এর পরও এ চাপ সামাল দিতে কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় পর গত নভেম্বর থেকে বন্দরে জাহাজজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়। জাহাজ না থাকায় জেটিও খালি ছিল কয়েক দফায়। জাহাজ আসার সঙ্গে সঙ্গে একদিনেই জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়তি সতর্কতার জন্য বন্দরের কার্যক্রম তিনদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাতে বন্দরে জাহাজের জট লেগে যায়। এ জট সামাল না দিতেই শুরু হয় ঈদের ছুটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

বন্দরের তথ্যমতে, ছুটির পরে ১৬ থেকে ১৭টি জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর অপেক্ষায় থাকলেও গতকাল সোমবার সকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১টিতে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন ও শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নেয়ায় টানা ছয় মাস বন্দরে জাহাজজট ছিল না। এখন ঘূর্ণিঝড় ও পরে ঈদের ছুটিতে আবার জট লেগে গেছে। নতুন করে যেহেতু এখনই কোনো জেটি বন্দরে যুক্ত হচ্ছে না, সেজন্য নানা কৌশল কাজে লাগিয়ে এ জট নিরসন করা ছাড়া বিকল্প নেই।

জুমবাংলানিউজ/পিএম