বিভাগীয় সংবাদ রাজশাহী

দাদীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নাতনীকে…

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দশটা। নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের গোধড়া গ্রামে স্থানীয় আ.লীগ নেতারা একটি ধর্ষণের বিচার করছেন। বিচার কার্য প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ করেই শালিসের প্রধানের কাছে একটি ফোন আসলো।

প্রত্যাশা ভেঙে গেল শালিস প্রধানদের। লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদের কড়া নিদের্শে ধর্ষনের বিচার কার্য বন্ধ করে যে যার বাড়ি ফিরে গেলো।

গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে শিশু ধর্ষন চেষ্টার মতো একটি অমানবিক কাজ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হলো শালিসের মাতবররা।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার উপজেলার গোধড়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে জোর করে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে প্রতিবেশী মুল্লুক আলী (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত রহিমের ছেলে।

শিশুটির দাদী বলেন, আমার ছেলে এই মেয়েটিকে ছোট রেখে মারা যায়। মেয়েটির মা মেয়েকে আমার কাছে রেখে বাবার বাড়ি থাকে। সে কোন খোঁজ খবর রাখেনা। আমি মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে এই বাচ্চাটাকে মানুষ করছি।

মুল্লুক এর আগে আমাকে ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। তাই গত বুধবার রাত আনুমানিক আট’টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে মুল্লুক পূর্ব পরিকল্পনায় আমার ঘরে ঢুকে জোর করে নাতনীকে ধর্ষন করার চেষ্টা করে।

কিন্তু আমি ঘটনার সাথে সাথে বাড়ি ফিরলে মুল্লুক ঘরের ভিতর থেকে বের হয়ে যায়। আমি বাড়ির ভিতর ঢুকলে আমার নাতনী চিৎকার করে আমাকে ঘটনাটি বলে দেয়। আমি মুল্লুককে ধরার জন্য চেষ্টা করলে সে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যায়। সাথে সাথে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশীদের পরামর্শে লালপুর থানায় মামলা করতে যেতে চাইলে গ্রামে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা গ্রামেই সুষ্ঠু বিচার করবে বলে যেতে দেননি।

কদিমচিলান ইউনিয়নের ১নং ইউপি সদস্য আবুল কালাম সরদার বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পর হুজুর আলির বাড়িতে গ্রাম্য শালিসে গিয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের নিষেধ করলেও কেউ শোনেনি। পরে সেখান থেকে চলে আসি।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ওবায়েদ বলেন, শিশু ধর্ষণের বিচার গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে শুনে শালিস প্রধানদের ফোন দিয়ে শালিস বন্ধ করেছি।

কিন্তু এখনো ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কদিমচিলান এমন একটি ইউনিয়ন যেখানকার স্থানীয় নেতারা নিজেরাই সমস্ত বিচার কার্যের মাধ্যমে সমাধান করেন। খুন, ধর্ষণ, বিবাহ বিচ্ছেদ সমস্থ অমানবিক কাজ নিজেরাই সমাধান করে থাকে। লালপুর থানা পুলিশ বর্তমানে তাদের এই প্রথা ভাঙার ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ও ভুক্তভুগিদের সহযোগীতা এবং প্রমাণের অভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে শালিস প্রধানরা বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য।