অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর। (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নৌযান শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নৌপথে সারা দেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে জ্বালানি পরিবহনও। ধর্মঘটের কারণে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণকারী ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্রলারগুলোও অলস বসে আছে। শ্রমিকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া নৌযান শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের কারণে আজ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রকার অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে। সেখানকার অর্ধশতাধিক বড় জাহাজগুলোতে পণ্য উঠা-নামা বন্ধ রয়েছে।

তবে বন্দরের অভ্যন্তরের জেটিগুলোতে অবস্থান নিয়ে থাকা সমুদ্রগামী জাহাজগুলোতে পণ্য উঠা-নামা করছে।

লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার টান্সপোর্টেশন কো-অডিনেশন সেল সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে ২৬টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য বহির্নোঙরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে এসব জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য বহির্নোঙরে যেতে পারেনি।

নৌযান ধর্মঘটের কারণে কর্ণফুলীর নদীর অভ্যন্তরীণ রুটের বন্দর হিসেবে পরিচিত মাঝির ঘাট-সদরঘাটের ১৮টি জেটিতে কোনও ধরনের পণ্য উঠা-নামা হচ্ছে না।

একই সঙ্গে পতেঙ্গায় দেশের প্রধান তেল স্থাপনা থেকে সারাদেশে জ্বালানি পরিবহনও বন্ধ রয়েছে মঙ্গলবার সকাল থেকে। বন্ধ আছে, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্রলারগুলোও।

শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়া ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন।

এদিকে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও পণ্য জটের আশংকা দেখা দিয়েছে। সমুদ্রগামী জাহাজগুলো পণ্য খালাস করতে না পারলে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে বন্দর ছেড়ে যেতে পারবে না। এতে পণ্য আমদানিকারকরা যেমন জাহাজের বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। জাহাজ যথা সময়ে ছেড়ে না গেলে তেমনি রপ্তানিকারকরা বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

এছাড়াও রমজানের ঠিকপূর্ব মুহূর্তে এই ধরনের ধর্মঘট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। রমজানের আগের এই সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তি প্রচুর জাহাজ বন্দরে আসে। এসব জাহাজ থেকে আশি শতাংশ পণ্য নদী পথে দেশের বিভিন্ন গন্তেব্যে যায়। বাজারে ঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছানো না গেলে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশানের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবি আলম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মালিকরা পাওনা না দেওয়াতে শ্রমিকরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া শ্রমিকদের জন্য সরকার যে মজুরি ঘোষণা করেছে অধিকাংশ জাহাজের শ্রমিকরা তা পাচ্ছেন না।

‘এই কারণে বাণিজ্যিক নৌযানের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত নৌযান শ্রমিকরাও এই ধর্মঘটের আওতায় এসেছে।’

নবি আলম জানান, শ্রমিকদের নগন্য একটি অংশ মালিকদের পক্ষ হয়ে গতকাল ঢাকায় মন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসেছিল। এই বৈঠকের সঙ্গে বেশিরভাগ শ্রমিকের কোনও সম্পর্ক নেই। আর এটা মন্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ