জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্লাইডার

দেখে নিন প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফেরত পেলেন কোন দলের কে কে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে প্রথম দিনে ৮০ প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। বাতিল করা হয়েছে ৭৬ প্রার্থীর আবেদন। চারজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ১৬০ প্রার্থীর আবেদনের শুনানি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চারটি আপিল আবেদনের পক্ষে কেউ উপস্থিত না থাকায় শুনানি হয়নি। আপিল শেষে সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান।

বিএনপির ৩৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র ফেরত পেয়েছেন। দলটির ২০ জন প্রার্থীর আপিল নাকচ হয়েছে। জাতীয় পার্টির নয়জন এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন স্বতন্ত্র ১৩ জন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনের অস্থায়ী এজলাসে এ শুনানি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারও শুনানি হবে।

বিএনপির যারা প্রার্থিতা ফেরত পেলেন

আপিল শুনানিতে বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন, ঝিনাইদহ-১ মো. আব্দুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ মো. শাহজাহান, সিলেট-৩ আব্দুল কাইয়ুম, জয়পুরহাট-১ ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ মো. হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ মো. আইনাল হক, খুলনা-৬ এসএ শফিকুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ মো. জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-২ একেএম মুখলেছুর রহমান, চট্টগ্রাম-১ নুরুল আমীন, কুমিল্লা-৫ মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা, গাইবান্ধা-৩ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা-৫ মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক, ময়মনসিংহ-৩ আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আবু আসিফ, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আজাদ, মানিকগঞ্জ-৩ মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-১৪ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আব্দুল খালেক, রাজশাহী-১ মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ মো. হানিফ, চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ এমএ মুহিত ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের।

বিএনপির যেসব প্রার্থীর আবেদন নাকচ

আপিল শুনানিতে বিএনপির যেসব প্রার্থীর প্রার্থিতা ফেরত আসেনি তাদের মধ্যে রয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, পঞ্চগড়-১ মো. তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৩ মো. আব্দুল মুহিত, বগুড়া-৬ একেএম মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জ-২ মো. জাকির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আখতার হোসেন, ফেনী-১ মো. নূর আহাম্মদ মজুমদার, লালমনিরহাট-২ মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর-৫ মমতাজ হোসেন, চট্টগ্রাম-৫ মীর মোহাম্মদ নাসির, নীলফামারী-৪ মো. আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ-৩ সাইফুল ইসলাম শিশির, বাহ্মণবাড়িয়া-৪ মুশফিকুর রহমান, নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বগুড়া-৭ মোহাম্মদ সরকার বাদল, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ, নওগাঁ-৫ মোহাম্মদ নাজমুল হক, যশোর-২ সাবিরা নুর ও মাগুরা-২ আসনের খন্দকার মেহেদী আল মাসুম।

যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী বৈধ হলেন

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম দিনের শুনানিতে ১৩ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ-২ আসনের মো. আবু বকর সিদ্দিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-১ মাহবুব আলম, বরিশাল-২ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আশরাফ উদ্দিন, রংপুর-১ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ মোহাম্মদ আবু জাফর, কুড়িগ্রাম-৪ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, বরিশাল-২ মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, সিলেট-৫ ফয়জুল মুনির চৌধুরী, গাইবান্ধা-৪ আব্দুর রহিম সরকার, চট্টগ্রাম-১৬ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বগুড়া-৫ আসনের মোহাম্মদ আব্দুর রউফ মন্ডল।

স্বতন্ত্র যাদের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদা, দিনাজপুর-২ মোকাররম হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. তৈয়ব আলী, দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন, ফেনী-১ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ ড. মিজানুল হক, রাঙামাটি অাসনের অমর কুমার দে, বগুড়া-৪ মোহাম্মদ আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), সাতক্ষীরা-১ এসএম মুজিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ মো. বশির উল্লাহ, নওগাঁ-৪ আফজাল হোসেন, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল ফয়েজ ভুঁইয়া, কুমিল্লা-২ মো. সারওয়ার হোসেন, কুমিল্লা-৪ মাহবুবুল আলম, নোয়াখালী-৩ এইচ আর এম সাইফুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন, নীলফামারী-৪ আখতার হোসেন বাদল, নীলফামারী-৪ মিনহাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আবুল হাশেম, কুড়িগ্রাম-১ মোহাম্মদ ওসমান গণি, ফেনী-৩ হাসান আহমদ, ময়মনসিংহ-১০ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, বগুড়া-২ মোহাম্মদ আবুল কাসেম, বাহ্মণবাড়িয়া-৫ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, নড়াইল-১ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের নুরুল ইসলাম।

প্রার্থিতা ফেরত পেলেন অন্যান্য দলের যারা

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আফসার আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির পটুয়াখালী-১ সুমন সন্যামত, জাতীয় পার্টির মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, জাতীয় পার্টির গাজীপুর-২ মো. মাহবুব আলম, একই আসনে মো. জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ জেসমিন নুর বেবী, রংপুর-৪ মোস্তফা সেলিম, বাংলাদেশ ইসলামীক ফ্রন্টের হাবিগঞ্জ-১ জুবায়ের আহমেদ, জাতীয় পার্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আব্দুল্লাহ আল হেলাল, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের হাবিগঞ্জ-৪ মওলানা মোহাম্মদ ছোলাইমান খান রাব্বানী, নাটোর-৪ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আলাউদ্দীন মৃধা, চাঁদপুর-৫ এলডিপি’র মোহাম্মদ নেয়ামুল বশির, কুড়িগ্রাম-৪ জাকের পার্টির শাহ আলম, জিনাইদহ-৩ জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান স্বাধীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশে’র সৈয়স আনোর আহাম্মদ লিটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ জাতীয় পার্টির মামুনুর রশীদ, ঢাকা-১৪ জাকের পার্টির জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ এলডিপির এমএ বাশার, কুড়িগ্রাম-৪ গণফোরামের মাহফুজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৬ জাকের পার্টির মুহাম্মদ ফয়সাল বিন শালিক, চট্টগ্রাম-১০ জাসদের আনিরসুর রহমান, কুমিল্লা-১১ জাকের পার্টির তাজুল ইসলাম বাবুল, কুমিল্লা-৫ ইসলামী ঐক্যজোটের মো. শাহ আলম, যশোর-৬ জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ জেএসডি’র ফকির শওকত আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৬ বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. হাবিবুর রাহমান, বগুড়া-২ আসনের বিএমএলের শফিকুল ইসলাম।

অন্যান্য দলের যাদের আবেদন নামঞ্জুর

জাতীয় পার্টির মাদারীপুর-৩ আসনের মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, ঠাকুরগাঁও-৩ বিকল্প ধারা বাংলাদেশের এসএম খলিলুর রহমান, নেত্রকোণা-১ বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ জাপার মোহাম্মদ এমদাদুদল হক, খুলনা-২ আসনে জাপার এসএম এরশাদুজ্জামান।

বিএনপির ও স্বতস্ত্র নিয়ে চার আবেদন পেন্ডিং

গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির মো. নাজিমুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম -৪ আসনের ইমান আলী, চট্টগ্রাম-৯ আাসনের সামসুল আলম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আদিভ আলভীর আপিল আবেদনও পেন্ডিং আছে। শর্ত পূরণ করলে তাদের মনোনয়নও বৈধ হবে বলে ইসি জানিয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনের জন্য তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে রিটানিং কর্মকর্তারা ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এক শতাংশ ভোটার না থাকায়, ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র, লাভজনক পদে থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, ঋণ খেলাপির অভিযোগ, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য কারণে তাদের মনোনয়নয়ন বাতিল করা হয়েছিল।

এ নির্বাচনে ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসে্ম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্ভব ভোটগ্রহণ।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি