ক্যাম্পাস জাতীয়

দুর্ঘটনার কবলে কুবি শিক্ষক বাস

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরিবহণকারী বাস ঢাকা চট্টগ্রাম-মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে । দুর্ঘটনায় বাসে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বাসটির হেলপারসহ কমপক্ষে ৬জন আহত হয়েছে। তবে আহতরা আশঙ্কামুক্ত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ড. সাহিদা আক্তার শিমু।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়-রোববার (২৩জুন) সকাল ১০.৩০ এ মহাসড়কের পৌদ্দার বাজার উড়াল সড়ক থেকে নামার সময় কিসমত রোডের সংযোগ অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির(কুমিল্লা-ঝ ১১-০০০৮) সামনে হঠাৎ ফাইবার এট হোম নামক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির পিক আপ (ঢাকা মেট্রো-ঠ ১১-৯১৯১) থেমে যায়। এ সময় পেছনে থাকা চলন্ত বাস তাৎক্ষনিক ব্রেক কষলেও সংঘর্ষ এড়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাসে থাকা যাত্রীরা আহত এবং বাসটির সামনে থাকা বাম্পার বাঁকা হয়েও মূল বাসটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাসটির ড্রাইভার মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন -“সামনে থাকা পিকআপটা কিসমত রোডের কাছে এসে প্রথমে ডান দিকে সাইড নেয়। আমি যখন বাম দিক দিয়ে বের হতে যাব তখনই পিকআপটা বাঁ দিকে হঠাৎ ইন্ডিকেটর দেখিয়ে সাথে সাথেই বাঁ পাশের রাস্তায় ঢুকতে গিয়ে থেমে যায়। আমিও দ্রুত ব্রেক কষে বাস থামানোর চেষ্টা করি, কিন্তু ঐ সময় সামনের পিক আপ রাস্তার প্রায় মাঝে থেমে যাওয়ায় ধাক্কা ঠিকই লেগে যায়।”

অপরদিকে অভিযুক্ত পিক আপের ড্রাইভার তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি জানান- গাড়িতে থাকা ফাইবার এট হোমের টেকনিশিয়ানরা রাস্তার দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে আসা মাত্র টেকনিশিয়ানদের একজন তাকে পিকআপটি বাঁ পাশের রাস্তায় ঢুকাতে বলেন। আগে থেকে না বলায় তিনি গতি কমিয়ে সাইড নিতে পারেননি। তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গাড়িটি বাঁ পাশের সংযোগ সড়কে নিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত গাড়িটি বিশ্বরোডের মূল অংশেই থামিয়ে ফেলেন। তিনি দাবি করেন এমন পরিস্থিতিতে বাঁম পাশের রাস্তায় তৎক্ষণাৎ ঢুকাতে গেলে, বিশ্বরোডে প্রতিটি গাড়ির পেছনে অন্য গাড়িও গতিশীল থাকায় দুর্ঘটনাটি আরও বড় হতে পারতো।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কর্মকর্তা জাহিদুল আলম জুয়েল বলেন -“পিকআপসহ ড্রাইভার ও ফাইবার এট হোমের লোকদের ক্যাম্পাসে পরিবহন পুলের অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। জরিমানা আদায় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”