Default জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন

চট্টগ্রামে ‘স্বপ্নভঙ্গ’ বিএনপির হেভিওয়েট যে চার প্রার্থীর!

 

ফাইল ছবি

জুমবাংলা ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নির্বাচনী হলফনামায় ব্যাংক ঋণ, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও মামলার কারণে চট্টগ্রামের আলোচিত চার হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

হেভিওয়েট চার আলোচিত প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, হাটহাজারী-৫ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং ফটিকছড়ি-২ ও রাঙ্গুনীয়া-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী।

অন্যদিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনের মতে, মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচনের সুযোগ আছে তাদের। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর প্রার্থী কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারবেন। কমিশনও যদি প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয় তখন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবেন। হাইকোর্ট আবেদন মঞ্জুর করলে বাতিল হওয়া প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রিটার্নিং অফিসারের বিবেচনা সাপেক্ষে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনও যদি উক্ত প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেন তাহলে তিনি হাইকোর্টে যেতে পারবেন। হাইকোর্ট যদি বাতিল হওয়া প্রার্থীর পক্ষে রায় দেন তাহলে ওই প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তফসিল অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৯ ডিসেম্বও চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে যাচাই-বাছাই পর্বে বৈধতা পান বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর)আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ নোমান। বোয়ালখালী আসন থেকে সাবেক সাংসদ মোরশেদ খানের পাশাপাশি বিএনপির চিঠি পেয়েছেন দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান। তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মোরশেদ খান নির্বাচন করতে না পারলে সুযোগ পেতে পারেন তিনি আবু সুফিয়ান।

হাটহাজারী-৫ আসনে মামলা সংক্রান্ত কারণে মীর নাছিরের মনোনয়নপত্র বাতিল বৈধ না হলে সাবেক সাংসদ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও ২০ দলীয় জোটের শরীক দল কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের মধ্যে যে কোন একজন মনোনয়ন পাবেন।

রাঙ্গুনিয়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপী হওয়ায় বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। তবে এখানে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলটির প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের মনোনয়নপত্র। এতে এলডিপির প্রার্থী নুরুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ফটিকছড়ি-২ আসনেও গিয়াস কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

সীতাকুন্ড-৪ আসনে বিএনপি নেতা ঋণখেলাপী হওয়ায় বাতিল হয়ে যায় বিএনপি প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/এসএস