জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার রাজনীতি

দলগুলোর সহাবস্থানে তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক নীতিমালা

আবু সালেহ মো. ইউসুফ : রাজনীতি। শাব্দিক অর্থে রাজার নীতি। রাজ্যের শাসক রাজা। রাজ্যে বসবাসকারীরা শাসকের প্রজা। দিন বদলেছে। রাজারাও রাজ্য হারিয়েছে।

বহুকাল আগে থেকেই বিশ্বে বিভিন্ন দেশের জন্ম হয়েছে। কালের পরিক্রমায় হয়তো কোনো দেশ নাম হারিয়ে অন্যের নামে যুক্ত হবে বা নতুন কোনো দেশের জন্ম হবে। দেশ শাসন করেন এখন প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি-মন্ত্রী-চ্যান্সেলররা।

রাজ্য ও দেশের মধ্যে রাজনীতির পার্থক্য হলো রাজার আমলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রাজনীতি চর্চা করার কোনো ধরনের সুযোগ পেতো না। কিন্তু এখন সবাই রাজনীতি করতে পারেন। যদিও কোনো কোনো দেশে কোনো দলের হয়ে রাজনীতি চর্চা করার ক্ষেত্রে শিক্ষার ন্যূনতম একটি স্তরের যোগ্যতার বিধিমালা রয়েছে। যা আমাদের দেশে এখনো হয়ে ওঠেনি।

সারা দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে ভোট গণনা। বিজয়ী দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সার্বিক রাজনীতি চর্চায় অংশগ্রহণ করার বিধিমালায় সংস্কার আনতে হবে। সর্বাগে তৃণমূল পর্যায় থেকে এই সংস্কার শুরু করতে হবে। এরপর অন্য দলগুলোও এ পথ অনুসরণে আগ্রহী হবে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর রাজনীতি চর্চার বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। বা রাজনীতিবিদ্যা নিয়ে চর্চা করে এমন ব্যক্তিদের সহায়তায় বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে রাজনীতি চর্চার একটি সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম রচনা করা যেতে পারে। যা প্রতিবেশী দেশ বা বিশ্বের পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর কাছে রাজনীতি চর্চার একটি বিজ্ঞানসম্মত মডেল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

শুধু তা-ই নয়, এতে করে রাজনীতি চর্চা সুসংহত হবে। সব দলের মাঝে ভারসাম্য তৈরি হবে। ফলে দেশের স্বার্থে সব দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত সহাবস্থান তৈরি হবে।

তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকলাপে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় নিশ্চিতভাবেই তারা সমাজ সচেতন না। সমাজ বদলের মত কোনো ধারণা তাদের মেধা মননে নাই। অবশ্য এর পিছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে বাছবিচারহীনভাবে যেকারোর রাজনৈতিক অঙ্গনে উপস্থিতি সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। সমাজে বিভিন্ন স্তরের লোকজন থাকায় দলগুলোকে সমাজে এসব নেতা-কর্মীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে মাশুল দিতে হয় না। তবে একেবারেই যে দিতে হয় না তা নয়।

প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে অনেকেই হয়তো তরুণদের কাছ থেকে শুনে থাকবেন রাজনীতি চর্চার ওপর তাদের বিরূপ ধারণার কথা। এ ধারণা একদিনে তৈরি হয়নি। দিনের পর দিন রাজনীতির এমন হালচিত্র দেখে তাদের মনে এমন বিতৃষ্ণা ভর করেছে।

আগে থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় নেতা-কর্মী যারা রয়েছেন তাদের বহাল রেখে এখন থেকে রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষার ন্যূনতম একটি স্তরের যোগ্যতার বিধান তৈরি করতে হবে। সক্রিয় রাজনীতি করতে ইচ্ছুক এমন তরুণদের  মানবিকতা এবং যুগের উৎকর্ষ সাধনের গুণাবলী যাচাই করে তাদেরকে রাজনীতির মাঠে সুযোগ তৈরি করে দিয়ে সুরক্ষা দিতে হবে। নিশ্চিতভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মপ্রণালীর মাধ্যমে সমাজ, দল ও দেশ উন্নয়নের পথ দেখবে।

 

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই