খেলা-ধুলা

দত্তক নেয়া গ্রাম সন্তানস্নেহে পালন করছেন শচীন টেন্ডুলকার

এ যেন এক অচেনা ‘মাস্টার ব্লাস্টার’! হাতে নেই উইলো। মানছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে এসেছেন তা’ও প্রায় বছর তিনেক হয়ে গেল। কিন্তু এখনও ভারতের সাবেক ক্রিকেটার শচীন রমেশ টেন্ডুলকারের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠা মানেই আগাপাস্তলা ক্রিকেটের ‘ওম’!

উইলো কাঠ আর লাল চেরির গন্ধে যা মাখামাখি। বাইশগজে ম্যাকগ্রা, ওয়ার্ন, আকরাম, ইউনিস, মুরালী, স্টেইনদের শাসন করা লোকটাই কী না ক্লাসরুমের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন পাক্কা কিন্ডারগার্টেন মাস্টারের মতো! সামনে টেবিলে বসা এই এত্তোটুকুন সাইজের পড়ুয়ারা। সামনের ডেস্কে রাখা বই। যা পড়ার চাইতে নেড়েচেড়েই দেখছেন বেশি।

ওরা এই পৃথিবীকে জানতে চাইছে। নতুন চোখে। নতুন করে। যারা এ পর্যন্ত পড়ে ভেবে নিয়েছেন ক্রিকেট ছাড়ার পর এবার একশো শতরানের মালিক নিজের শখ মেটাতে কোনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলের টিচারশিপ নিয়ে ফেললেন তারা আরেকটু ধৈর্য ধরুন।

আসলে বছর দুয়েক আগে ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর জেলার একটি গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন। গ্রামটির নাম পুত্তমরাজু চন্দ্রিকা। রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে শচীনের এই উদ্যোগ গোটা দেশেই প্রশংসিত হয়েছিল। নাম কা ওয়াস্তে গ্রাম দত্তক নেয়াই শুধু নয়, সেখানে উন্নয়নের কাজ কতটা এগোল তা খতিয়ে দেখতে বেশ কয়েকবার পুত্তমরাজুতে গিয়েওছেন শচীন।

সেখানকার স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। খোঁজ নিয়েছেন খুঁটিনাটি ব্যাপারে। সবকিছু দেখেশুনে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। সম্প্রতি ফের গিয়েছিলেন অন্ধ্রের সেই গ্রামটিতে। ঘুরে দেখলেন এবং নিজের সাংসদ তহবিল থেকে ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করলেন বাস্তবায়িত হতে চলা আরও বেশ প্রকল্পের জন্য।

আসলে নামটা তো শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। তাই যা করেন আর যা করতে চান নিখুঁতভাবেই সম্পন্ন করাটাই থাকে লক্ষ্য। ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ এক্ষেত্রে যেন সর্বার্থেই ‘মাস্টার পারফর্মার’! ঠিক একজন দক্ষ অভিভাবকের মতো নিজের দত্তক নেয়া গ্রামটিকেও সন্তানস্নেহে পালন করে বড় করে তুলতে চান তিনি।

ভিডিও:প্রকাশ হল জলি এলএলবি ২“ –এর ট্রেলার (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment