খেলা-ধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের কাছে উড়ে গেল টাইগাররা!

টেস্ট সিরিজে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছুটা হলেও সে ব্যর্থতা ঘোচাতে চায় টাইগাররা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যর্থতার লম্বা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের কাছে উড়ে গেল টাইগাররা। ব্যাটিং স্বর্গে মাত্র ২৫৫ রানে অলআউট হয় মাশরাফিরা। ২১ বল ও ৬ উইকেটে হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় স্বাগতিক শিবির।

২৫৬ রানের লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে এ লক্ষ্য আহামরি তেমন কিছুই নয়। কিন্তু লক্ষ্য ছোট হলেও শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশ। বাংলাদেশের বোলারদের ভোগান্তি বাড়িয়ে ১৪৭ রানের বিশাল ওপেনিং জুটি গড়েন দুই ওপেনার আইডেন মারকরাম ও ম্যাথু ব্রিজটেক। হাফ সেঞ্চুরি তুলেছেন দুই জনই। এগিয়ে গিয়েছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ফেরাতে পেরেছেন টাইগাররা।

তবে ওপেনারদের বিদায় করতে পাড়লেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের নিকটে নিয়ে যান অধিনায়ক জেপি ডুমিনি। দলীয় ২৩৬ রানে ডুমিনিকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। এরপর জয় থেকে ৪ রান দূরে থাকতে মাহমুদউল্লাহর দ্বিতীয় শিকার হন ডি ভিলিয়ার্স। তবে তা কেবল জয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৪৬.৩ ওভারে ৬ উইকেটের সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮২ রানের ইনিংস খেলেন মারকরাম। ৬৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ১০০ বল মোকাবেলা করে ৯টি চারের সাহায্যে ৭১ রান করেন ব্রিজটেক। ডি ভিলিয়ার্স ৫০ বলে ৪৩ রান করেন। ডুমিনি করেন ৩৪ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ১৩ রানের খরচায় ২টি উইকেট পান মাহমুদউল্লাহ। ১টি করে উইকেট পান মাশরাফি ও নাসির।

এর আগে প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ বল বাকি থাকতেই ২৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হলেও শুরু থেকেই সংগ্রাম করে টাইগার ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৩১ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় দলটি। দলীয় ৬৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে তারা। তবে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন সাকিব আল হাসান। গড়েন ৫৭ রানের জুটি।

বিশ্রাম থেকে ফিরে এদিনই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেন সাকিব। ফিরেই করেন হাফ সেঞ্চুরি। খেলেন ৬৮ রানের ইনিংস। ৬৭ বলে ৯টি চারের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান বিশ্বসেরা এই অল রাউন্ডার। হাফসেঞ্চুরি করেন সাব্বির রহমানও। ৫৪ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫২ রান করেন তিনি। এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হলে ১১ বল বাকি থাকতেই ২৫৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।