জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

তিস্তা ব্যারেজের সেচ ক্যানেলে হঠাৎ পানির স্রোতধারা

এম আর মহসিন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: তিস্তা ব্যারেজের সেচ ক্যানেলে হঠাৎ স্রোতধারায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর এ দৃশ্য দেখে কৃষকরা অভিভূত হয়েছেন। কারণ চলতি বোরো মৌসুমে তিস্তার সেচ পানি পেয়ে ব্যাপক ফলনের আশা করছেন তারা।

সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুর খাল তিনটি ফেসেই ৭১১ কিলোমিটার এলাকা সেচের পানিতে ভরে উঠেছে। আর এর সঙ্গে সংযোগ নালাগুলোতে স্রোতধারায় প্রবাহিত হচ্ছে সেচের পানি।

জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রধান ক্যানেল, ৭৫ কিলোমিটার মেজর সেকেন্ডারি সেচ ক্যানেল, ২১৫ কিলোমিটার সেকেন্ডারি ক্যানেল ও ৩৮৮কিলোমিটার টারশিয়ারী ক্যানেলে ১২ ঘণ্টা পরপর ৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাচ্ছেন কৃষকরা। এতে মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে কৃষকরা বোরোর চারা রোপন করছে। আবার যেখানে বোরো চারাগুলো পানির অভাবে বিনষ্টের সম্ভাবনা ছিল সেখানে এ সেচ প্রকল্পের পানি পেয়ে নিয়ে ওই জমিতে বোরো চারা রোপন করছে কৃষকরা।

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে পানি আসছে। ব্যারেজ পয়েন্টে পানিতে ভরে উঠছে। এতে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সব সেচ ক্যানেল পানিতে টইটুম্বুর হয়েছে।

জানা যায়, ক্যানেল সংস্কারের বরাদ্দ পাওয়ার পরও তা সংস্কারের কাজ শেষ করতে না পারায় সৈয়দপুর, দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা এ সেচ থেকে বঞ্চিত। ওইসব কৃষকরা সেচের জন্য সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে ধর্না দিয়েও সুফল পাচ্ছেন না।

রংপুর কৃষি অঞ্চল কার্যালয় সূত্র জানায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় পাঁচ লাখ জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ মতে, বোরো চারা লাগানোর সময় এখনও রয়েছে। তারপরেও যারা স্বল্প মেয়াদি রোপা আমন ধান আবাদ করছে তাদের সেচের মাধ্যমে চারা রোপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিস্তা সেচ ক্যানেলের সেচ সুবিধা নেয়া কৃষক বাবুল বলেন, তিস্তার সেচ ক্যানেলের পানির কারণে এবার ফলন বেশিসহ লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সেচ ক্যানেলগুলো সংস্কার না করার কারণে প্রচুর পানি থাকলেও অনেকে ভালোভাবে নিতে পারছে না। এতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আবার অনেক এলাকায় ময়লা আবর্জনা ও ঝোপ-ঝাড়ের কারণে পানি যাচ্ছে না।

তিস্তা ব্যারেজের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষকরা এ প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে তারা পরিপূর্ণভাবে বোরো আবাদ করতে পারেন এবং সেচ পানির অভাবে চাষাবাদেও ব্যাঘাত না ঘটে সে লক্ষ্যে সেচ ব্যবস্থাপনা করা করা হচ্ছে।

জুমবাংলানিউজ/একেএ