খেলা-ধুলা

তিন যুগ পর বিশ্বকাপ থেকে ইতালির বিদায়

ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির। আর প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জেতায় ১২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হল সুইডেনের।

একদিনে কান্নার রোল, অপরদিকে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। এটাই যে ফুটবলের রোমাঞ্চ, ফুটবলের ধর্ম কি-বা সৌন্দর্য। কেউ হাসবেন, কেউ কাঁদবেন। কেউ হারবেন, কেউ আবার হারাবেন। তবে গেল রাতটা ইতালির জন্য সত্যিই মন ভাঙার রাত। নিজ মাঠে গ্যালারিভর্তি দর্শকদের হতাশার সাগরে ভাসিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া মানতে পারছেন না মিলানবাসী।

ম্যাচ শুরুর অনেক আগ থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ সান সিরো স্টেডিয়াম। পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড আর জার্সি গায়ে গোটা গ্যালারিকে মাতিয়ে রাখে রোম শহরের দেশটি। মনেপ্রাণে একটাই চাওয়া বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপ। থমকে গেল সেই চাওয়া, ভেঙে গেল সব স্বপ্ন। প্রিয় দলের জন্য সব সাজ যেন এক নিমেষেই পুড়ে ছাই। ৫৯ বছর পর ইতালিকে ছাড়া দেখতে হবে বিশ্বকাপ।

প্রথম লেগে সুইডেনের মাঠে হেরে যাওয়ায় ঘরের মাঠ মিলানের সান সিরোয় জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না ইতালির সামনে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাঠে নামে বুফনবাহিনী। পুরো ম্যাচে ৭৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করে খেলতে থাকে দলটি। ম্যাচের ৪০ মিনিটে গোলের সুযোগও পেয়েছিল দলটি। তবে ইম্মোবিলের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইডেন গোলরক্ষক।

বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ইতালি। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষ শিবিরকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। তবে চিরো ইম্মোবিলে ও আলেস্সান্দো ফ্লোরেন্সিদের বার বার হতাশ করে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে সামনে দাঁড়ানো সুইডেন গোলরক্ষক।

এরপর ম্যাচের ৮৩ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে ফ্লোরেন্সির ক্রসে পারোলোর দারুণ হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর শারাউইয়ের আরেকটি শটও ফেরান সুইডেন গোলরক্ষক ওলসেন। পুরো ম্যাচে ২৭টি শট নেয় ইতালি, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়লো আজ্জুরিরা। এর আগে ২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দুই আসরে গ্রপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হয়েছিল ইতালি।