অর্থনীতি-ব্যবসা আন্তর্জাতিক

তিন যুগে ১৬ লাখ কোটি ডলার পাচার!

উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো থেকে অর্থ ও সম্পদ পাচার নতুন কোনো বিষয় নয়। সম্পদ পাচার নিয়ে বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ১৯৮০ সাল থেকে গত তিন যুগে উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে পাচার হওয়া সম্পদের অর্থ মূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। পাচার হওয়া এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় সমান।

উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে উন্নত বিশ্বে কী পরিমাণ সম্পদ চলে যাচ্ছে মূলত সে বিষয়টিই গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। জিএফআইয়ের সঙ্গে এ গবেষণায় নরওয়েজিয়ান স্কুল অব ইকোনমিকস এবং ব্রাজিল, ভারত ও নাইজেরিয়ার গবেষকেরা কাজ করেছেন। গবেষণায় সম্পদ পাচারে তিনটি বিষয়কে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো লেনদেন ভারসাম্যের ত্রুটি, বাণিজ্যিক লেনদেনে মিথ্যা ঘোষণা বা ভুয়া তথ্য দেওয়া এবং ঘোষণা দিয়ে অর্থ স্থানান্তর।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য বা ট্যাক্স হ্যাভেন নামে পরিচিত কয়েকটি দেশের মাধ্যমে উন্নয়নশীল বিশ্বের পাচার হওয়া সম্পদের সুফল ভোগ করছে উন্নত বিশ্ব। সম্পদ পাচারের এ প্রবণতার ফলে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকেরা একদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে গরিব দেশের পাচার করা টাকা ব্যবহার করে উন্নত দেশগুলো ওই সব দেশেই আর্থিক ঋণ দিচ্ছে। অর্থাৎ পাচার করা অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে সেটি শোধের দায় নিতে হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের।

সম্পদ পাচারের হিসাব বের করতে গিয়ে জিআইএফই সারা বিশ্বে গত তিন যুগে মোট সম্পদ স্থানান্তরের (এনআরটি) একটি সংজ্ঞাও নির্ধারণ করেছে। তাতে দেখা যায়, এনআরটির সংজ্ঞা অনুযায়ী অবৈধভাবে যত সম্পদ এক দেশ থেকে আরেক দেশে গেছে, তার ৮২ শতাংশের জোগান এসেছে উন্নয়নশীল দেশ থেকে। সম্পদ পাচারের এ প্রবণতা পুঁজিবাদের মূল ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের মতে, নৈতিকভাবে সৎ লোকদের হাতে পুঁজির নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। কিন্তু সম্পদ পাচারের এ প্রবণতার কারণে বেশির ভাগ পুঁজির নিয়ন্ত্রণ অসৎ লোকদের হাতে চলে যাচ্ছে।

উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে সম্পদের পাচার রোধে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে গবেষণায়। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), ওইসিডি এবং ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সম্পদ পাচারের হিসাব নির্ধারণে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ভিডিওঃ গ্রামের আনন্দ – যাত্রার মেয়ে নিয়ে ঠাসাঠাসি – ধ্বস্তাধস্তি

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.