খেলা-ধুলা

তামিমকে দেখে শিখছেন সৌম্য সরকার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজের উদ্দেশ্যে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে সৌম্য সরকার কাজ করছেন নিজের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য। ফর্ম ফিরে পেতে যেমন কাজ করছেন, তেমনি নিয়মিত অনুসরণ করছেন সতীর্থ তামিম ইকবালকেও। কিভাবে তামিম দিনের পর দিন পরিপক্ব ইনিংস খেলছেন- সেটাও বেশ ভালোভাবে লক্ষ করছেন সৌম্য। আজ সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সৌম্য বলেন, ‘ওনার (তামিম) কাছ থেকে আমি নিয়মিতই শিখি। মাঠে যখন তার সাথে খেলি তখনো আমি দেখি যে তিনি কিভাবে খেলছেন।’

দীর্ঘ দিন ধরেই চরম ব্যাটিং সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সৌম্য সরকার। সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার ব্যর্থতার চিত্র আরো ভালোভাবে ফুটে ওঠে। নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য কাজ করছেন সৌম্য। কিভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায় সেদিকে মনোযোগী হয়েছেন। আজ মিরপুরে নিজের ফর্ম নিয়ে সৌম্য বলেন, ‘একদিন ভালো করছি তো আরেকদিন ভালো হচ্ছে না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খারাপ করেছি। তার আগের সিরিজটা আবার ভালো করেছি। নিজে এসব উপলব্ধি করছি। সমস্যার সমাধান আমাকেই বের করতে হবে। নিয়মিত যদি একই ধরনের আউট হতাম, বুঝতাম সমস্যা একই রকম। কিন্তু আউটগুলো একই রকম নয়। সমস্যা ভিন্ন ভিন্ন। চেষ্টা করছি সমস্যাগুলো সমাধান করার। রান তো আমাকে করতেই হবে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’তামিম ও সৌম্য একসাথেই ওপেনিং করেন বাংলাদেশ দলের হয়ে। যদিও দুইজনের জুটিটা খুব বেশি পুরনো নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে শুরু। দুইজনের মধ্যে অভিজ্ঞতার বিস্তর ফারাক। তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় খেলছেন। আর সৌম্যের তো মাত্র দুই বছর। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে অভিষেক ঘটে সৌম্যের। তার অভিষেকের পর ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল নিজেকে নিয়ে গেছেন আরো অনেক উচ্চতায়। সে তুলনায় অমিত সম্ভাবনা থাকলেও সৌম্যের ভালো সময় যেন ধরাই দিচ্ছেন না। ধুমকেতুর মতো উদয়। অসাধারণ ব্যাটিং আর দৃষ্টিনন্দন শর্ট খেলতে পারেন ভয়-ডরহীন। অথচ তিনিই কি না বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছেন ফর্মহীনতায়। সৌম্য তার ফর্ম ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি আমার সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছি। আশা করি ভালো কিছু করতে পারব।’

শুধু ব্যাটিংই নয়, মিডিয়াম পেস বোলিংও করতে পারেন সৌম্য। দলের প্রয়োজনে তার হাতেও মাঝে মধ্যে বল তুলে দেন অধিনায়ক। সৌম্য চাইলে নিজেকে একজন ভালো অলরাউন্ডার হিসেবেও গড়ে তুলতে পারেন। বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নেটে নিয়মিত বোলিং প্র্যাকটিস করি। দলের প্রয়োজন হলে অবশ্যই বল হাতে সাপোর্ট দেবো।’

প্রায় ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। তবে এই দীর্ঘ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র চারটি টেস্ট খেলার সুযোগ হয়েছে টাইগারদের। যার তিনটিতেই বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। অন্যটিতে লড়াই করলেও হারের ব্যবধান ৩ উইকেটে। তবে দিন পাল্টেছে। বাংলাদেশ আগের চেয়ে অনেক পরিণত, অনেক অভিজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়ারও সেই প্রতাপ নেই। আর এটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে সৌম্যকে। তার আশা, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আলোড়ন তুলবে টাইগাররা। বোর্ডের সাথে ক্রিকেটারদের দেনা-পাওনাসংক্রান্ত ঝামেলা মেটার ওপরে নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর। সব কিছু ঠিক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি ঢাকায় আসার কথা ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলটির। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে সৌম্য বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরেই আমরা টেস্টে ভালো খেলছি। গত বছর ইংল্যান্ডকে ঘরের মাটিতে হারাই। তাই মনে করি, আমাদের সামনে বড় সুযোগ। আশা করি, আমরা ভালো খেলেই ওদের হারাতে পারব।’



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন