জাতীয় রাজনীতি স্লাইডার

তফসিল ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী বিএনপি

এম এম হাসান: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।  ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর।  আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন সিইসি।  আগামীকাল থেকে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এই  নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। সংলাপের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও বিএনপি যে এবার নির্বাচনে আসবে সে ব্যাপারে এখনো তারা ঘোষণা দেননি। তবে ধরে নেয়া হচ্ছে এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক কর্মকান্ডই বলে দেয় এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এই দল। ২০১৩ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে সাড়া না দেওয়ায় নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল। এবার নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা  বিএনপি প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে সংলাপের টেবিলে বসার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে তারা নির্বাচনে যেতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

এই নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিকে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে হবে তা হচ্ছে-তাদের নেতৃত্বাধীন জোট এবং নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগি।  শরিকরা এবার বিএনপির কাছে অনেক বেশি আসন চাইছে। এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

২০০৮ সালে ২৬০ আসনে প্রার্থী ছিল বিএনপির। ৪০টি আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। জামায়াতকে দেওয়া ৩৩ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক ছিল না। বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে দুটি করে এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটিসহ মোট সাতটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি।

২০১২ সালে জোট সম্প্রসারণের কারণে বিএনপি জোট হয় ২০ দলীয় জোট। সম্প্রতি তিনটি দল জোট থেকে বেড়িয়ে গেলেও বিএনপির জোটের আকার বেড়েছে। কারণ বিএনপি নিজেদেরকে আরেকটি নতুন জোটের সাথে জড়িয়ে ফেলেছে। গণফোরামে সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটের নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই জোটে বিএনপি ছাড়াও আছে আসম আব্দুর রবের জাসদ, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। নতুন এই জোটের শরিকরাও আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সাথে দর কষাকষি করবে এবার।

আওয়ামী লীগের জোটের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হলে জোটের সবাইকে  ধরে রাখা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিএনপিকে আগের চেয়ে এবার  আসন বেশি ছাড়তে হবে। দুই জোটের শরিক দলগুলো বিএনপির কাছে কমবেশি ১৫০ আসন দাবি করছে বলে সূত্রে জানা যায়। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি ও জোটের নেতারা মুখোমুখি অবস্থানে আছে। ক্ষমতায় ফেরার জন্য এবার সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি এমনটাই ধরে নেয়া হচ্ছে।

ঐক্যফ্রন্টের বাইরে বিএনপি জোটের মোট নয়টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। এই তালিকায় আছে বিএনপি, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও মুসলিম লীগ। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করায় বাতিল হয়েছে।

নিবন্ধিত কয়েকটি দলেরও সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই নির্বাচনে গেলে জোটের পক্ষ থেকে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই জোটের প্রধান শরিক বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তৎপর এসব শরিকরা।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম