বিনোদন

ঢাকার মঞ্চ মাতালেন শর্মিলা ঠাকুর

ঢাকা মাতালেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর ভারতের স্বনামধন্য অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। যদিও তার নাম বেগম আয়েশা সুলতানা। বিয়ের পরে ধর্ম পরিবর্তন করে এই নাম নেন। বাংলাদেশের মানুষ তার অভিনয়ের ভক্ত সবসময়। রূপালি পর্দার সেই মোহময়ী নায়িকাকে এবার সামনাসামনি দেখে তার কথা শুনে ভালোবাসা আরো বাড়লো। রাজধানীর বসন্ধুরা আবাসিক এলাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার গুলনকশা হলে গতকাল শনিবার অভিনয় ও কথায় মাতালেন বরেণ্য এ অভিনেত্রী। এটিএন বাংলার ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বয়স তার সত্তর পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের ছটা কমেনি শর্মিলা ঠাকুরের। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে উঠেন শর্মিলা ঠাকুর। কবিগুরুর বড় ভাই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতনি ছিলেন লতিকা ঠাকুর। শর্মিলা ঠাকুর এই লতিকা ঠাকুরের নাতনি। সম্পর্ক কিছুটা দূরের হলেও তারা একই বংশের। আর এটাই তার গর্বের বিষয় বলে জানান শর্মিলা। তিনি বলেন, ‘আমার জন্মের বছর তিনেক আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা যান। তাই তার সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ না হলেও মায়ের মুখে তার অনেক গল্প শুনেছি।’
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত সাড়ে ৮টা। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় দর্শকশ্রোতাদের। মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহা। প্রথম পর্বে ছিল শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয় করা বিভিন্ন গানের সঙ্গে নৃত্যপরিবেশনা। ‘আধো আলোছায়াতে, কিছু ভালোবাসাতে’ গানের সঙ্গে নৃত্যপরিবেশন করেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী তারিন। তখন মঞ্চের প্রথম সারিতে বসে হাততালি দেন প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে খাটি বাংলায় বলেন, ‘ঢাকা আমার খুব প্রিয় শহর। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের পরিবারের নাড়ির টান। ইতিহাস-রাজনীতি আমাদের ভাগ করে দিলেও মনের টান কমেনি। আমাদের ভাষা ও শিল্প এক ও অভিন্ন। তাই এ দেশে এলেই নাড়ির টান অনুভব করি।’ চলচ্চিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে আমার আশা দুই দেশের মধ্যে আরো সাংস্কৃতিক বিনিময় হোক, যৌথ চলচ্চিত্র নির্মিত হোক। কাটাতারের বাধা যেন আদানপ্রদানের প্রতিবন্ধক না হয়।’
বাঙালি মেয়ে কিন্তু অভিনয়ে মাতিয়ে দিয়েছিলেন পুরো ভারতবর্ষ। তার হাসি, গালের টোলে এখনও দিওয়ানা ভারতের অভিনয় পাগল দর্শক। জুটি বেঁধেছেন উত্তম কুমার, রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্রসহ ভারতের সব নামকরা নায়কের সঙ্গে। ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদিকে বিয়ে করে ঝড় তুলেছিলেন ভারতজুড়ে। তার ছেলে সাইফ আলী খান ও মেয়ে সোহা আলী খানও এসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা। তার পুত্রবধূ বিখ্যাত অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও জামাতা অভিনেতা কুনাল খেমু। সব ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি শর্মিলা ঠাকুর।
 একই আয়োজনে গানে গানে মাতালেন বলিউডের বিখ্যাত প্লেব্যাক সিঙ্গার জিত্ গাঙ্গুলী। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের একঝাঁক শিল্পী নেচে-গেয়ে মোহনীয় করে তোলেন রাতটি। এর আগে গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন শর্মিলা। তার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় পৃথক বিমানে ঢাকায় এসে পৌঁছান জিত্। পরে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ‘শর্মিলা ঠাকুর-জিত্ গাঙ্গলী লাইভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক কনসার্টে যোগ দেন জনপ্রিয় এ দুই মুখ। জমকালো এ কনসার্টের আয়োজন করে চ্যানেল লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট।
শর্মিলা ঠাকুর ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ লাভ করেন। তিনি ভারতের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কান চলচ্চিত্র উত্সবে জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। বর্তমানে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১১ সালে স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যুর পর তার স্মৃতি রক্ষার্থে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করছেন।
শর্মিলার সংক্ষিপ্ত জীবনী
১৯৫৯ সালে সত্যজিত্ রায়ের ‘অপুর সংসার’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে শর্মিলা ঠাকুর পা রাখেন। ১৯৬৪ সালে পরিচালক শক্তি সামন্তর ‘কাশ্মির কি কলি’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রবেশ করেন হিন্দি ছবির জগতে। একের পর এক মুক্তি পায় ‘ওয়াক্ত’, ‘অনুপমা’, ‘দেবর’ ‘শাওয়ান কি ঘাটা’। সবগুলোই বাণিজ্যিকভাবে সফল। ১৯৬৯ সালে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদি ও শর্মিলা ঠাকুর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বিয়ের পরও শর্মিলার ক্যারিয়ারে ভাটা পড়েনি।