জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিভাগীয় সংবাদ সিলেট

ড. ফরাসউদ্দিনের সম্মানে সরে দাঁড়ালেন অনেকেই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. ফরাসউদ্দিন। জেলার সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে তাঁকে নিয়ে। হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। আর তাঁকে সম্মান জানাতে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই মনোনয়নপত্র কেনেননি। অথচ এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দিন-রাত কাজ করে আসছিলেন।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করে আলোড়ন তুলেছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। স্বেছাশ্রমের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার কাজ আর খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি লাইভ করলে লক্ষাধিক ফলোয়ার লাইক ও কমেন্ট দেয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ড. ফরাসউদ্দিন নির্বাচন করার আগ্রহ দেখানোয় সুমন মনোনয়নপত্র কেনেননি। সুমন বলেন, ‘ড. ফরাসউদ্দিন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর অনেক অবদান। তিনি নির্বাচিত হলে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মন্ত্রী হলে আমার এলাকার উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী। তাই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলে আমি চাইতে পারি না।’

মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসিম একসময় ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ড. ফরাসউদ্দিনের মতো লোক এমপি হলে শুধু আমার এলাকার উন্নয়নই হবে না, তাঁর মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। তাই একজন বরেণ্য এবং জ্ঞানী ব্যক্তিকে সম্মান দেখাতে আমি মনোনয়নপত্র কিনিনি।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব, ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুল হাইয়ের সন্তান আরিফুল হাই রাজীব দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন পেতে কাজ করে আসছেন। ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে যান। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি জনগণের সেবা করতে। কিন্তু আমার থেকে যাঁর সেবা করার সুযোগ বেশি হবে তাঁকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা উচিত। ফরাসউদ্দিনের মতো ব্যক্তিকে সম্মান দেখাতেই মনোনয়নপত্র ক্রয় করিনি।’ ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘আমার প্রতি সম্মান দেখিয়ে যাঁরা মনোনয়নপত্র কিনেননি তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আবার অনেকেই মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং জমা দিলেও আমি মনোনয়ন পেলে আমার পক্ষে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি