slider অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় পুঁজিবাজার

ডেঞ্জারজোনে অবস্থান করছে পুঁজিবাজারের ৫৩ কোম্পানি

২০১০ সালের ধসের পর দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দাবস্থা বিরাজ করে। সাম্প্রতিকালে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব ফিরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন বাড়ছে লেনদেন, বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের বিচরণ, বাড়ছে শেয়ারদরও।

এমনি ইতিবাচক বাজারে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্বে স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচেছ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়াটা পুঁজিবাজারের জন্য সুখকর নয়। তবে পুঁজিবাজারে এখনো বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ার বিনিয়োগ উপযোগি বলে তারা মনে করেন। কারণ বাজারের সার্বিক প্রাইস আর্নিং (পিই) রেশিও বা মূল্য আয় অনুপাত অতীতের তুলনায় এখনও অনেক কম।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজারের চাঙ্গাভাবে কাজে লাগিয়ে স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির ৫৩ কোম্পানির শেয়ার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব কোম্পানির বর্তমান পিই(মূল্য আয়) রেশিও খুবই বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। ডেঞ্জারজোনে থাকা এ ৫৩টি কোম্পানির মধ্যে ৩৫ কোম্পানি লোকসানে রয়েছে এবং ১৮ কোম্পানির পিই অনেক বেশি।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভাল ও মৌলভিক্তি কোম্পানি চেনার একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো কোম্পানির পিই রেশিও। যে কোম্পানির শেয়ারের পিই রেশিও যত কম, সে কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিও তত কম। আর যে কোম্পানির পিই রেশিও যত বেশি, সে কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিও তত বেশি। তাদের মতে, কোনো কোম্পানির পিই রেশিও ৪০ পয়েন্টের নিচে থাকলে তাকে বিনিয়োগের জন্য মোটামুটি নিরাপদ মনে করা হয়। আর ৪০ পয়েন্টের ওপরে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকে অনিরাপদ বলে মনে করা হয়।

এদিকে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস ১৯৯৯ অনুযায়ী, ৪০ পয়েন্টের ওপরে অবস্থানকারী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্জিন সুবিধা প্রদানে নিষেধারোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনায়ও পিই রেশিও ৪০ পয়েন্টের নীচে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ। আর ৪০ পয়েনেটর ওপরে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ অনিরাপদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুঁজি্বাজারে বর্তমানে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যা ৩৫টি। লোকসানি মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রকৃতিগতভাবে লোকসানি কোম্পানির শেয়ার স্থায়ীভাবেই ডেঞ্জারজোনের অধিবাসী। আর পিই ৪০ পয়েন্টের ওপরে রয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ১৮টি। এ দুই মিলে বর্তমানে পুঁজিবাজারে ডেঞ্জারজোনের অধিবাসীর সংখ্যা ৫৩টি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঞ্জারজোনের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা মানে অনিশ্চিত গন্তব্যে বিনিয়োগ করা।

পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পিই রেশিওর শেয়ার হলো মুন্নু স্ট্যাপলার। এর পিই রেশিও ১০৬২.৭৫। এরপরের অবস্থানে রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেবলসের শেয়ার। এর পিই রেশিও ৭৮৪.৫০। পিই রেশিও ৬৭৩.৭৫ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার।

এছাড়া লিগ্যাসি ফুটওয়ারের পিই রেশিও ৫২৬.২৫, ফ্যামিলি টেক্সের ৪০১.৪৭, বিডি অটোকারসের ২৬৮.৭৫, আজিজ পাইপসের ২৫৭.৪৩, রেনউইক যঞ্জেশ্বরের ২১৮.১০, এমারেন্ড ওয়েলের ২০৫.৮৩, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ১৬৫.৭৯, মেঘনা সিমেন্টের ১৪৬.০৫, সোনালী আঁশের ১৪৫.৭৮, এ্যাম্বি ফার্মার ১৪৫.৪৪, নর্দার্ন জুটের ১২৭.৭৬, অ্যাপেক্স ফুডের ১১৯.৩২, ইনটেক অনলাইনের ১০৩.৫৯, ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১০১.৩৯ এবং বিকন ফার্মার পিই রেশিও ৬২.২২। উল্লেখ্য, পিই রেশিও ৬০ পয়েন্টের ওপরের কোম্পানিগুলোর নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লোকসানি ৩৫টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-অলটেক্স, অ্যারামিট সিমেন্ট, এটলাস বাংলাদেশ, বঙ্গজ, বিডি সার্ভিস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, বিআইএফসি ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সিভিও পেট্রো, ঢাকা ডাইং, দুলামিয়া কটন, ফা্রইস্ট ফাইন্যান্স, গোল্ডেন সন, হাক্কানি পাল্প, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইমাম বাটন, আইএসএন, জুট স্পিনার্স, খুলনা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, মেঘনাপেট, মেট্রো স্পিনিং, ন্যাশনাল টিউবস, প্রাইম ফাইন্যান্স, রহিমা ফুড, সমতা লেদার, সু্রিদ ইন্ডাষ্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তাল্লু স্পিনিং, ইউনিয়ন কেপিট্যাল, উসমানিয়া গ্লাস ও ঝিলবাংলা সুগার।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, লোকাসানি কোম্পানিতে বলতেই ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি বুঝায়। কারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা এদের থাকে না। এ ধরনের কোম্পানি কোন মতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে। এরা অস্তিত্ব সংকটের দ্বারপ্রান্তে থাকে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা গন্তব্যহীন পথে যাত্রা করার শামিল।