খেলা-ধুলা

টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এগিয়ে আছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে

একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে আছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিনের ক্যারিয়ার সেরা ১৬০ রানের কল্যাণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাট হাতে যুতসই জবাব দিতে পারেনি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় দিন শেষে ২৯৩ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে আছে স্বাগতিকরা। ফলে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ৬৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে লঙ্কানরা।

আরভিনের অপরাজিত ১৫১ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ৩৪৪ রান তুলে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছিলো জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় দিন নিজেদের ইনিংসটা খুব বেশি দূর টানতে পারেনি তারা। আর মাত্র ১২ রান যোগ করে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৫৬ বলে ১৬০ রানে থামেন আরভিন। ২৪ রান নিয়ে শুরু করে ২৭ রানে আউট হন ডোনাল্ড ত্রিরিপানো। শ্রীলঙ্কার বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ ১১৬ রানে ৫ উইকেট নেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৩০তমবারের মত ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন হেরাথ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটা তার তৃতীয়বারের মতো ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার। ভালোভাবেই নিজেদের ইনিংস শুরু করে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪ রান এনে দেন দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও উপুল থারাঙ্গা। যার মধ্যে করুনারত্মের অবদান ২৫ রান। জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার ডোনাল্ড ত্রিরিপানো করুনারত্মেকে ফিরিয়ে দলের পক্ষে প্রথম সাফল্য এনে দেন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গার পর ১০৭ থেকে ১১৬ রানের মধ্যে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তিন নম্বরে নামা কুশাল মেন্ডিস ১১ রান করে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারের শিকার হন। আর রান আউটের ফাঁদে পড়ে ৭১ রানে থেমে যান থারাঙ্গা। টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ- সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ১০৭ বল মোকাবেলায় ১০টি চার ও ১টি ছক্কা হাকান থারাঙ্গা।

এরপর শ্রীলঙ্কার ইনিংসে রানের চাকা ঘুড়েছে বর্তমান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল ও সাবেক দলপতি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পরিস্থিতিকে সামলে উঠে, জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়ে বসেন তারা। এতে জিম্বাবুয়ের দলীয় স্কোর ২শ’ পেরিয়ে যায়। তাই চান্ডিমাল-ম্যাথুজের দিকে তাকিয়ে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখছিলো শ্রীলঙ্কা।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার স্বপ্নতে বাধ সাধেন ক্রেমার। চান্ডিমাল ও উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলাকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে খেলায় ফেরার পথ দেখান ক্রেমার। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৫ রান করেন চান্ডিমাল। তার ১০০ বলের ইনিংসে ৬টি চার ছিলো। আর মাত্র ৬ রান করে ক্রেমারের তৃতীয় শিকার হন ডিকবেলা। ক্রেমারের উইকেট শিকার দেখে উৎসাহী হয়ে উঠেন সিন উইলিয়ামস। তাই অন্যপ্রান্ত দিয়ে আক্রমনে এসে ম্যাথুজকে তুলে নেন তিনি। ২টি চারে ১০৪ বলে ৪১ রান করে সাজ ঘরে ফেরেন ম্যাথুজ।

২৩৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর, দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেটি হতে দেননি দিলরুয়ান পেরেরা ও আসলে গুনারত্নে। সপ্তম উইকেটে দু’জনে জুটি গড়েন ৩৬ রানের। পেরেরা ৪৩ বলে ৩৩ রান করে ফিরে গেলেও, ২৪ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন গুনারত্নে। তার সঙ্গী হেরাথের সংগ্রহ ৫ রান। জিম্বাবুয়ের ক্রেমার ১০০ রানে ৩ উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে):

জিম্বাবুয়ে: ৩৫৬/১০, ৯৪.৪ ওভার (আরভিন ১৬০, ওয়ালার ৩৬, হেরাথ ৫/১১৬)। শ্রীলংকা : ২৩৯/৭, ৮৩ ওভার (থারাঙ্গা ৭১, চান্ডিমাল ৫৫, ক্রেমার ৩/১০০)। বাসস।