খেলাধুলা

টি-২০ টুর্নামেন্টে দুই রান নিয়ে তুলকালাম!

ব্যাট করছে কর্ণাটক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলকে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দৌড়াচ্ছেন করুন নায়ার। হায়দরাবাদের ফিল্ডার মেহেদী হাসান বল কুঁড়িয়ে ফেরত পাঠাতে পাঠাতে ব্যাটসম্যানরা অবস্থান পরিবর্তন করেছেন দু’বার। ফিল্ড আম্পায়ার দুই রান হিসেবেই সংকেত দিলেন। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেলো, ফিল্ডার বল কুঁড়িয়েছেন বাউন্ডারি লাইনের দড়ির উপর দাঁড়িয়ে!

ব্যাপারটি অন ফিল্ড আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে গেলেও চোখ এড়ায়নি ধারাভাষ্যকারদের। তারা এও বলছিলেন- ফিল্ডার নিজেও জানেন এটা চার! বোলিং প্রান্তে থাকা আম্পায়ার উলহাস গান্ধে ব্যাপারটি যেন আমলেই নিলেন না। ৫ উইকেটে ২০৩ রানে ইনিংস শেষ হওয়ার পর রাগ উগড়ে দিলেন কর্ণাটকের অধিনায়ক বিনয় কুমার।

এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে। সাংসদপুত্র হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে দলে জায়গা পাওয়ার বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিল আসরটি।

তবে জেনে নেওয়া যাক বিতর্কের পুরোভাগ। কর্ণাটকের চাপের মুখে ভুল স্বীকার করে তাদের স্কোরবোর্ডে যোগ করা হয় আরও ২ রান। অর্থাৎ, ২০৪ রানের বদলে হায়দরাবাদের লক্ষ্য তখন ২০৬ রান। কাকতালীয় হলেও সত্যি, হায়দরাবাদের ইনিংস থেমে গেলো ২০৩ রানে! কর্ণাটক জয় পেল ঠিক ২ রানেই!

এমন কঠিন নিয়তি আবার মেনে নিতে পারেননি হায়দরাবাদের খেলোয়াড়রা। আগের দাবি তুলে, অর্থাৎ লক্ষ্য ২০৪ রান ধরে নিয়ে সুপার ওভারের আশায় তারা পড়ে রইলেন মাঠে। ম্যাচ তখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। কিন্তু হায়দরাবাদের খেলোয়াড়েরা নাছোড়বান্দা। সুপার ওভার না হলে মাঠই ছাড়বেন না তারা!

শেষমেশ সেটিই ছিল ম্যাচের পরিণতি। তবে হায়দরাবাদের খেলোয়াড়দের এমন অখেলোয়াড়সুলভ আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরের ম্যাচ। তারা মাঠ না ছাড়ায় নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি কেরালা ও অন্ধ প্রদেশের মধ্যকার ম্যাচ। বাধ্য হয়ে তাই ইনিংস প্রতি ১৩ ওভার করে গড়ায় খেলা। সাংবাদিকদের অবশ্য হায়দরাবাদ অধিনায়ক আম্বারি রায়ডু বলেন, ‘আমি জানি না ঠিক কী ঘটেছে তবে আমরা ২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করেছি। ঠিক এ কথাটাই আম্পায়ারকে বলতে চেয়েছি, এ জন্য সুপার ওভারের অপেক্ষায় ছিলাম যেটা হলো না।’

জুমবাংলানিউজ/এসএস