জাতীয় শেয়ার বাজার

টানা ১১ সপ্তাহ ধরে চলেছে পতন, লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশের বেশি

পুঁজিবাজার ডেস্ক : নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শেয়ারবাজারের সূচক যতটা বেড়েছিল, টানা ১১ সপ্তাহের দরপতনে তার চেয়ে বেশি কমে গেছে। গেল সপ্তাহে দরপতন আরো ত্বরান্বিত হয়। মিছিল-মিটিং, সমালোচনা, ক্ষোভ, আশ্বাস-আশাবাদ সবকিছুর সমন্বয়ে বৃহস্পতিবার সূচকে পয়েন্ট যোগ হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ২ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সব মূল্যসূচক। লেনদেন কমেছে ১৬ শতাংশের বেশি।

পতনশীল বাজারে কেনাবেচায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই কমছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ১৬ শতাংশ কমে ৩৩৫ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। সপ্তাহ শেষে চামড়া ও পাদুকা শিল্প ছাড়া বাজার মূলধন হারিয়েছে সব খাত। ডিএসইতে ৫২টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৮০টি সিকিউরিটিজ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে আস্থা আর তারল্য—দুটোরই সংকট চলছে। একসঙ্গে দুটোই বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা। উদাহরণ হিসেবে তারা গত সপ্তাহে লেনদেন শুরু হওয়া এসক্যোয়ার নিটের শেয়ারের বাজারদর তুলে ধরছেন।

গত সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয়েছে রফতানিমুখী কম্পোজিট নিটওয়্যার কোম্পানি এসক্যোয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেডের। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসা কোম্পানিটির প্রাথমিক শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিনেছে ৪৫ টাকা দরে, ১০ শতাংশ ডিসকাউন্টে ব্যক্তি শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন ৪০ টাকা দরে। দেশের শেয়ারবাজারে সাধারণত নতুন শেয়ারের অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা গেলেও বাজার পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার এসক্যোয়ার নিটের শেয়ারদর ছিল ৪২ টাকার ঘরে।

সপ্তাহের বাজারচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে চলমান পতনে সূচক সবচেয়ে দ্রুত কমেছে গত সপ্তাহে। বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর দরপতনই এর মূল কারণ। তবে ছোট মূলধনি বহু কোম্পানির শেয়ারদরও পতনশীল ছিল। রোববার সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৪৫০ পয়েন্টের ওপরে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের আশা ছিল সেখান থেকে সূচক বাড়তে শুরু করবে। তবে এরপর টানা চারদিন সূচক কমে ৫ হাজার ২৬০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত এ দরপতন বাজারে ভীতির সঞ্চার করে। সব পক্ষ তারল্য পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর তাদের অনাস্থার প্রকাশ ঘটায়।

জুমবাংলানিউজ/পিএম