জাতীয়

টঙ্গীর তুরাগতীরে আজ শুরু হচ্ছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার মুসল্লিদের সমাগম আগের তুলনায় অনেক বেশি হবে। কিন্তু এরই মধ্যে বিশ্ব তাবলিগ মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভির আগমনকে কেন্দ্র করে ইজতেমা আয়োজনকারীদের মধ্যে মতভিন্নতা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ চায় না মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নিন। অপর পক্ষ চাচ্ছে, গত কয়েক বছরের মতো তিনিই আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।

এ নিয়ে তাঁর আগমনের বিরোধীপক্ষ গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিমানবন্দরের সামনের সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। মাওলানা সা’দ দুপুর ১টায় ঢাকায় পৌঁছলেও তিনি বিমানবন্দরের বাইরে আসতে পারেননি। এই বিক্ষোভ চলে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর এর জেরে ঢাকার একটি বড় অংশজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়। বিকেলে পুলিশ পাহারায় মাওলানা সা’দকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষোভের অবসান ঘটে। ধর্মপ্রাণ অনেক মুসল্লিও এমন জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকে ভালো চোখে দেখেননি।

মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ তুরাগতীরের এই বিশ্ব ইজতেমা। ৫২ বছর ধরে চলে আসছে এই সমাবেশ। এবারই প্রথম সমাবেশে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। নিঃসন্দেহে এটি দুনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কেই একটি ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের মধ্যে যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে আগেই নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। কোনোভাবেই একে প্রকাশ্যে আনা ঠিক হয়নি। তদুপরি এমন একটি মহতী সমাবেশের আগে রাস্তা বন্ধ করে এত বড় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। আমরা আশা করি, উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে।

বিশ্ব ইজতেমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামের শান্তির বাণী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মানুষকে দ্বিনের পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। ইজতেমায় যাঁরা আসেন তাঁরাও ইসলামের পবিত্র শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাগতিক ও পারলৌকিক মুক্তির পথ খুঁজে পেতেই এখানে আসেন।

আমরা আশা করি, মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশ যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা বিশ্ব ইজতেমার ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করবে।

 

জুমবাংলানিউজ/আর