আন্তর্জাতিক

অভিবাসী উদ্ধারকারী জাহাজের নামকরণ সেই আয়লানের নামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারকারী জার্মানির এক জাহাজের নাম রাখা হয়েছে সিরিয়ার শরণার্থী শিশু আয়লান কুর্দির নামে। এই কুর্দি শিশু ২০১৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা যায়।

তীরে ভেসে উঠেছিল আয়লান কুর্দির মৃতদেহ। সৈকতে তার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা মৃতদেহ ঝড় তোলে বিশ্বব্যাপী।

সোমবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানায়, স্পেনের ম্যালোরকা দ্বীপে জাহাজের এই নামকরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়লানের বাবা আবদুল্লাহ কুর্দি, ফুফু তিমা কুর্দি।

জার্মান দাতব্য সংস্থা সি-আই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে জাহাজটির নাম ছিল প্রফেসর আলব্রেখট পেঙ্ক।

আয়লানের বাবা আবদুল্লাহ বলেন, জার্মানের একটি উদ্ধারকারী জাহাজের আমার ছেলের নামে নামকরণ করা হয়েছে এতে আমি আনন্দিত।

তিনি বলেন, “সমুদ্রের তীরে পড়ে থাকা আমার ছেলে কখনো বিস্মৃত হবে না। নৌকাডুবিতে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের হারিয়ে আমাদের পরিবারের যে দুঃসহ যন্ত্রণা তা হাজারো পরিবারেরই। তারাও হারিয়েছে তাদের ছেলে বা মেয়েদের।”

গ্রিসে যেতে এ কুর্দি শরণার্থী পরিবারটিকে তুরস্ক সরকার ভিসা দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে পাচারকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে আরও অনেক শরণার্থী পরিবারের সঙ্গে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চড়ে বসেছিলেন নৌকায়। তাদের গন্তব্য ছিল গ্রিস হয়ে পরবর্তী কানাডায়। সেখানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলেন আবদুল্লাহর বোন তিমা।

কিন্তু সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এতে মারা যায় তিন বছরের শিশু আয়লান। সমুদ্রে ডুবে গেলেও ঢেউয়ের তোড়ে সে ভেসে উঠেছিল তীরে।

ওই দুর্ঘটনায় মারা যায় ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আয়লানের মা রেহানা এবং ভাই গালিবও। তবে তীরে পড়ে থাকা আয়লানের সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যই নাড়া দেয় বিশ্ববাসীকে।

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই