জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

বন্যায় মোর বাড়ি-ঘর সউগ খাইছে, এখন মুই রাস্তায় আছং বাহে !

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: মোর জমিজমা ঘর-বাড়ি আছিল (ছিল) বাহে ! ধরলায় সউগ ঘর-বাড়ি ও জমিজমা গিলি খাইচে (খেয়েছে)। গত বছরের বন্যায় সব চুরমার করেছে। এখন এক বছর ধরিয়া মুই (আমরা) রাস্তায় আছং বাহে !

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গ্রাম্য ভাষায় কথাগুলো বললেন ধরলা ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হওয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চর-বড়ভিটা গ্রামের মৃত নবিউল্লার স্ত্রী মরিচমতি বেওয়া (৭৯)। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে মনসুর আলী (৫৪), ছোট ছেলে আব্দুল হানিফ (৪০)। দুই ভাইয়ে আলাদা। মা মরিচমতি বড় ছেলের কাছেই থাকেন। বড় ছেলে মনসুর আলীসহ গত এক বছর ধরে রাস্তায় বসবাস করছেন। মনসুর আলী দিন মজুরের কাজ-কাম করে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

মনসুরের মা মরিচমতি বেওয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘১০ বছর আগেই অসুস্থ হয়ে স্বামী মারা যান। স্বামীর যে টুকু সহায় সম্বল ছিল তা সবই ধরলায় খেয়ে ফেলেছে। স্বামী মারা গেছে ১০ বছর হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটা ভাতার কার্ড করে দেয়নি চেয়ারম্যান-মেম্বার। দুই ঈদে দুইটা ১০ কেজি চাউলের রিলিফ পাই মাত্র। আগে ছোট ছেলের মাঝেই ছিলাম। ছোট ছেলে বিয়ের পর আলাদা হয়। এখন বড় ছেলের মাঝেই আছি। বড় ছেলে অনেক কষ্ট করে দিন মজুরের কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে কোনো রকমেই সংসার চলে । যেদিন কাজ-কাম থাকে না সেদিন ধার দেনা করেই চলতে হয় এবং অনেক সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপবাসও থাকতে হয়।’

শুধু মরিচমতির করুন কাহিনী নয়। এমন অবস্থার শিকার ওই গ্রামের ইউসুফ আলী, কায়েম আলী, শহিদুল ইসলাম, মজি মিয়া, হাবিবুর রহমান, আলতাফ আলী, জহুরুল হক, মোজ্জাম্মেল হক, মালেখ মিয়া, আব্দুল হামিদ, মালেক সোলজার, আলম মিয়া, একাবর আলী, খোতেজা বেওয়া, এরশাদ ও এন্তাজসহ প্রায় ৩০ টি পরিবার । গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় এই ৩০ পরিবার  বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ওই পরিবারগুলো ভিটেমাটি ও ঘর-বাড়ি হারিয়ে সড়কে ছোট ছোট ঘর তৈরি করে কোনো রকমেই বসবাস করছে।

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, আসলে ওই পরিবারগুলো কষ্টে আছে। কারো দুই-তিন শতক জমি থাকলে বাড়ি নাই প্রকল্পের অধীন ১১ হাত টিন সেড ঘর নির্মান করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে ভাতা প্রদান করা হবে।

 

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই