খেলা-ধুলা

জয়ের জন্য ইতিহাস গড়তে হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে

কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। একমাত্র টেস্ট জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩৮৮ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৮ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ৫৬ রান ।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করে পাকিস্তান ৭ উইকেটে জিতেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই।

শ্রীলঙ্কায় ৩০০ বা এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা আছেই আর মাত্র দুটি। ২০০৬ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৫২ ও ১৯৯৮ সালে কলম্বোর এসএসসিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিল স্বাগতিকরা।

চতুর্থ ইনিংসে শ্রীলঙ্কা সর্বোচ্চ ৩৫২ রান তাড়া করে জিততে পেরেছে। কলম্বোয় জিততে হলে অনেক ইতিহাসই তাই নতুন করে লিখতে হবে চান্দিমাল-ম্যাথুসদের।

আজ চতুর্থ দিনে লাঞ্চের পর জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে ৩৭৭ রানে। ৬ উইকেটে ২৫২ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করা জিম্বাবুয়ে আজ চতুর্থ দিনে বাকি ৪ উইকেটে যোগ করেছে আরো ১২৫ রান।

অথচ প্রথম ইনিংসে ১০ রানের লিড নিয়ে কাল দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে ২৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। একটু পর যেটি হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৫৯! সেখান থেকে কী দুর্দান্তভাবেই না ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।

এর বড় কৃতিত্ব সিকান্দার রাজার। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১২৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন রাজা। চল্লিশোর্ধ ইনিংস খেলা পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার ও গ্রায়েম ক্রেমারের অবদানের কথাও বলতেই হবে।

৫৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর প্রথমে মুরের (৪০) সঙ্গে রাজা গড়েন ৮৬ রানের জুটি। এরপর ওয়ালারের সঙ্গে তার শতরানের আরেকটি দারুণ জুটি। যে জুটি আজ চতুর্থ দিনে থেমেছে ১৪৪ রানে। ওয়ালার ৬৮ করে ফিরলে ভাঙে রেকর্ড জুটি। এর আগেই অবশ্য রাজা পেয়েছেন সেঞ্চুরি।

রাজা তৃতীয় দিন শেষ করেছিলেন ৯৭ রান নিয়ে। আজ দিলরুয়ান পেরেরার করা দিনের প্রথম দুই বলে দুটি ডাবল নিয়ে রাজা পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। দলের স্কোর তিনশ পার করে ফেরেন তিনি। হেরাথের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়া রাজা ২০৫ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় করেন ১২৭।

এরপর নবম উইকেটে ডোনাল্ড তিরিপানোর (১৯) সঙ্গে ৫৫ ও শেষ উইকেটে ক্রিস্টোফার এমপফুর সঙ্গে ১৬ রানের জুটি গড়ে দলকে সাড়ে তিনশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন ক্রেমার। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া হেরাথ দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৬ উইকেট, ম্যাচে ২৪৯ রানে ১১ উইকেট। লঙ্কান বাঁহাতি স্পিনারের ম্যাচে ১০ উইকেট-কীর্তি হলো অষ্টমবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ৩৫৬

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৩৪৬

জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৭৭ (রাজা ১২৭, ওয়ালার ৬৮, ক্রেমার ৪৮, মুর ৪০; হেরাথ ৬/১৩৩, দিলরুয়ান ৩/৯৫, কুমারা ১/৭২)।