জাতীয়

জেলা প্রশাসক অবরুদ্ধ, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

ফাইল ছবি

জুমবাংলা ডেস্ক : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এই ঘটনায় বিজিবির গুলিতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হরিপুর উপজেলার বহরমপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিহতদের মধ্যে নবাব ও জয়নুল ছাত্র। নবাব অনার্সে পড়েন, আর জয়নুল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অপরজন সাদেক স্থানীয় কৃষক।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বহরমপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে দিয়ে গরু চোরাকারবারীরা ভারত থেকে গরু আনে। ওই গরু উদ্ধারে বিজিবি সদস্যরা অভিযানে যায়। এসময় চোরাকারবারীরা বিজিবির ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। বিজিবি সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।

সূত্রে জানাগেছে, বহরমপুর গ্রামের মাহাবুব আলী গত ৬ মাস আগে একটি গরু ক্রয় করেন। সেই গরু মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় যাদুরানী বাজারে বিক্রি করার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বেতনা ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা ভারতীয় গরু মনে করে ক্যাম্পে গরুটি নিয়ে যাওয়ার জন্য মাহাবুবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে গেলে মাহাবুবের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে বিজিবি গুলি ছুড়লে যাদুরানী বাজারের উদ্দেশে আসা দুইজন পথচারীসহ চারজন নিহত হন। আহত হন বিজিবি সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, বিজিবির একটি পেট্রল টিম চারটি গরু সিজ করে ফেরার পথে চোরাকারবারীরা এলাকাবাসীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বিজিবির ওপর হামলা করে। তাদের অনুরোধ করা হলেও কোনো কথা শুনেনি। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে বিজিবির অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চারজন বিজিবি সদস্য আহত হওয়ার পর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিজিবি গুলি ছোড়ে।

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, গুলিবিদ্ধ ১৫ জনের শরীর থেকে গুলি বের করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- হরিপুর উপজেলার রুহিয়া এলাকার নজরুল ছেলে নবাব (৩৫), মৃত জহিরউদ্দীন ছেলে সাদেক (৪৫), বহরমপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২) ও আব্দুর রহিমের ছেলে সাদেকুল (৩২)।

জুমবাংলানিউজ/এসএস