ইতিহাস মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার স্লাইডার

জেনে নিন আইসক্রিম তৈরির বৈচিত্রময় ইতিহাস

জুমবাংলা ডেস্ক: ভেনিলা, চকলেট কিংবা স্ট্রবেরী নানা ধরণের আইসক্রিম বাজারে জনপ্রিয়। সেই ছোটবেলা থেকেই আইসক্রিমের প্রতি আমাদের ছিলো প্রবল আগ্রহ। তখন আইস্ক্রিম ‘কুলফি’ নামেও প্রচলিত ছিলো। গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে ঠেলাগাড়ি করে হাতে থাকা ঘণ্টা বাজিয়ে যখন ‘আইসক্রিইইম’, ‘আইসক্রিইইইম’ ধ্বনি তুলতেন আইসক্রিমওয়ালা, তখন খালি গায়ে দৌঁড়ে ছুটে যেতাম। লাল, নীল, সাদা কত বাহারী রঙের আইসক্রিম পাওয়া যেতো। তখন রঙিন পাকা ধান ঘরের ওঠার সময়। মায়ের কাছে জোর আবদার জানিয়ে কিছু ধানের বিনিময়ে কিনতাম আইসক্রিম। হাতে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াতাম। আইসক্রিম গলে আঠালো রস সারা গায়ে লেগে যেতো। সেইদিন গত হয়েছে বহু আগেই। আইসক্রিমের রঙে ও স্বাদে এসেছে নানা পরিবর্তন। শৈশবের স্বতঃস্ফূর্ত রঙিন জীবনে হাতছানিতে কখনো হয়তো ভাবিনি, এই অদ্ভুত বরফের তৈরি খাবারটি কে বানালো?

আইসক্রিমের উৎপত্তি

আইসক্রিমের জন্মস্থান ধরা হয় মূলত চীনকে। চীনের শাং সাম্রাজ্যের রাজা টাঙের সময়কালে আইসক্রিমের মতোই বরফে তৈরি এক ধরণের খাবারের প্রচলন ছিলো। টাঙের ৯৪ জন আইসম্যান ছিলো যারা সেই খাবারটি বানাতে সহায়তা করতো। যা বানাতে মহিষের দুধ, আটা এবং কর্পূর ব্যবহার করা হতো।

কিন্তু ২০০ খ্রিষ্ট্রপূর্বে প্রকৃত আইসক্রিমের উদ্ভাবন হয়েছিলো চীনে। যারা দুধ এবং ভাত হিমায়িত করে আইসক্রিম তৈরি করতো।

চীন আইসক্রিমের জন্মস্থান। ছবি: সংগৃহীত

রোমান সম্রাটরা নেরর তার ক্রিতদাসদের টাটকা বরফ সংগ্রহের জন্যে উঁচু পর্বতের চূড়ায় পাঠাতো বলে ধারণা করা হয়। সেই বরফ থেকে এক ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করত এবং তার সাথে মধু ,বাদাম ও ফলের রস মিশিয়ে আরও সুস্বাদু করে তুলতো।

১৭ শতকের দিকে ইংল্যান্ডে যখন আইসক্রিম প্রথম এসেছিলো তখন ইংল্যান্ডের রাজা চার্লস ১ তার রাঁধুনিকে ৫০০ পাউন্ড করে উপহার দিতো যাতে সে আইসক্রিমের রেসিপি ইংল্যান্ডবাসীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে।

পিটারস আইসক্রিম। ছবি : সংগৃহীত

মূলত  ইতালিয় পর্যটক মার্কোপোলো আইসক্রিম তৈরির কৌশলটি চীন থেকে ইউরোপে নিয়ে আসেন। তৎকালীন সময়ে কুবলাই খানের লোকেরা ঠেলাগাড়ী করে জমাট দুধের খাবার বিক্রি করতো। মার্কোপোলো খাবারটি খেয়ে পছন্দ করেন এবং এর কৌশল শিখে নেন। এই খাবারটির নাম পরে হয় আইসক্রিম। ১৫৩৩ সালে আইসক্রিম ইতালী থেকে প্রথম ফ্রান্সে আসে এবং সেখান থেকে পরে যায় ইংল্যান্ডে। এরপর আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইসক্রিম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০০ সাল হতে আইসক্রিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।

১৯ শতকের শেষদিকে আমেরিকার শহর ইভানস্টনে রবিবার আইসক্রিম সোডা বিক্রি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। যার ফলে কিছু ব্যবসায়ী সোডার বদলে সিরাপ ব্যবহার করে আইসক্রিম সানডে নাম দিয়েছিলো, যা খাওয়ার পর ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া হতো।

আইসক্রিম ফ্লেভার

খ্রিস্টপূর্ব  ৪০০ বছর আগে থেকে এখন পর্যন্ত নানা ধরণের শতশত জাতের রেসিপিতে আইসক্রিম পাওয়া যায়। কারো কারো মতে সমগ্র বিশ্বে ১ হাজারেরও বেশি রকম আইস্ক্রিম এর ফ্লেভার পাওয়া যায়। তবে সবার বেশি পছন্দ সাদামাটা ভ্যানিলা, চকলেট, ম্যাংগো ইত্যাদি । অনেক দেশের রয়েছে নিজস্ব ফ্লেভার। অনেকের মতে ভেনিলা প্রথম আইসক্রিম ফ্লেভার কারণ এটি সর্বাধিক জনপ্রিয়। কিন্তু এই ধারণাটি সঠিক নয়। মূলত রোমান সম্রাট নেরর তার বাদাম, মধু বরফ হিমায়িত করে প্রথম আইসক্রিম ফ্লেভার তৈরি করেছিলো।

উল্লেখযোগ্য তথ্য

১) দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় সমগ্র পৃথিবীতে আইসক্রিম সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

২) আমেরিকার প্রায় ৯০% পরিবার আইস্ক্রিম খায়

৩) কলম্বাস উত্তর আমেরিকা আবিষ্কারের আরও ২৫০ বছর পর উত্তর আমেরিকাতে আইসক্রিম উৎপাদন শুরু হয়।

৪) হট ডগ ফ্লেভারের সবচেয়ে অস্বাভাবিক স্বাদের আইসক্রিম  তৈরি হয়েছিল আমেরিকার ‘অ্যারিজোয়ানাতে’।

৫) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ওজনের আইসক্রিম ১২,০৯৬ পাউন্ডের।

৬) ১ গ্যালন আইসক্রিম তৈরিতে ১২ গ্যালন দুধের প্রয়োজন হয়

৭) ১ কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিমে ২৭৩ ক্যালরি থাকে।