আন্তর্জাতিক

জিন্স প্যান্ট পরায় শ্বশুরবাড়ির আপত্তি, যে পথ বেছে নিলো গৃহবধূ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পোশাক ইস্যুতে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেছেন কেয়া দাস (২২) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি থানার অন্তর্গত মালঞ্চ এলাকায়। জানা গেছে, মাত্র ১১ মাস আগেই বেসরকারি সংস্থার কর্মী বন্টি দাসের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় কেয়ার৷ গত বৃহস্পতিবার রাতে কেয়া তার বাপের বাড়ির এক আত্মীয়র সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট-টপ পরে স্কুটি চালিয়ে কিছুটা দূরেই শ্বশুর বাড়িতে আসে। তাতেই আপত্তি জানায় ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ অভিযোগ, বিষয়টি আপত্তিতেই থেমে থাকেনি, ওই গৃহবধূ ও তার বাপের বাড়ির আত্মীয়দের অপমান করে কেয়ার বড় জা। এরপর ওই আত্মীয় কেয়ার শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাতেই কেয়ার সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের তুমুল অশান্তি হয়৷ এরপরেই কেয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর সেই দেহ শুক্রবার রাতে নৈহাটিতে নিয়ে এসে হরিতলা মোড়ে বেশ কিছুক্ষণ পথ অবরোধ করে কেয়ার বাপের বাড়ির লোকজন৷ তাদের অভিযোগ, ‘কেয়াকে ওর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে। আমরা ওর শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ওদের জন্যই কেয়া মারা গিয়েছে।’

এদিকে কেয়ার চাচা শ্বশুর দিলীপ দাস বলেন, ‘ওর অনেক আবদারই আমরা মেনে নিতাম। সেদিন ওকে নরম ভাবেই বোঝানো হয়েছিল যে আধুনিক পোশাক সব সময় না পরাই ভাল। কিন্তু ও যে এই ভাবে নিজেকে শেষ করে দেবে কেউই বুঝতে পারিনি। আমাদের ছেলেটাকেও আমরা সামলাতে পারছি না। আমাদেরও বড় ক্ষতি হল।’

নৈহাটি থানা পুলিশ এই ঘটনায় কেয়ার শ্বশুর বাড়ির দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছে। নৈহাটি মালঞ্চ এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পুলিশের কাছে।

জুমবাংলানিউজ/এসওআর