বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

জলবায়ু পরিবর্তনে পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

জলবায়ু পরিবর্তনে পুরুষের তুলনায় নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। জাতিসংঘের এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হচ্ছেন নারী।

প্রাথমিক যত্নকারী এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে নারীরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখন বন্যা ও খরা দেখা দেয়, তখন এই ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আরো বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে স্বীকার করা হয় যে, নারীরা সামঞ্জস্যহীনভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

মধ্য আফ্রিকায়, হ্রদ ‘লেক চাদের ৯০ শতাংশই অদৃশ্য হয়ে গেছে। যাযাবর আদিবাসী গ্রুপগুলি বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হ্রদের তীর দূরে সরে যাওয়ার কারণে পানি সংগ্রহ করার জন্য নারীদেরকে আরো অনেক বেশি হাঁটতে হচ্ছে।

‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিজেনাস উইমেন এন্ড পিপল অব চাদ (এএফপিএটি)’ এর সমন্বয়কারী হিন্দাউ ওমরু ইব্রাহিম ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এখানে শুষ্ক মৌসুমে, সম্প্রদায়ের দেখাশুনার ভার নারীদের ওপর অর্পণ করে পুরুষেরা শহরে চলে যায়।’

শুষ্ক মৌসুম এখন আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কোনো রকম সাহায্য বা সমর্থন ছাড়াই নারীরা তাদের পরিবারকে খাওয়ানো ও যত্নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। ওমরু বলেন, ‘এর ফলে তারা আরো অরক্ষিত হয়ে পড়ে … এ অবস্থায় কাজ করা খুবই কঠিন।’

তবে চাদের এই নারীদের মতো শুধু গ্রামীণ নারীরাই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন তা-ই না, বৈশ্বিকভাবেই পুরুষদের চেয়ে নারীদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেশি।

আর্থসামাজিক সক্ষমতায় নারী অনেক পিছিয়ে। আবার কোনো এলাকায় দুর্যোগ হলে অবকাঠামো, ঘরবাড়ি বা কাজের ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়, তাতে বেশি ভুক্তভোগী হন নারীরাই।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আফ্রিকার বংশোদ্ভূত মার্কিন নারীরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় নিউ অরলিনসের মতো নিম্নাঞ্চলগুলো উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আছে।

র্যা টকার্জ ইউনিভার্সিটির উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জ্যাকুলিন লিট বলেন, নিউ অরলিয়নসের আফ্রিকান আমেরিকান নারীদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার প্রকট। বেশির ভাগ পরিবারের প্রধান একলা মা। ক্যাটরিনার পর তাদের অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারীরা। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার সুনামির পর নারীরাই বেশি মারা গেছেন।

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নারীদের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে নারীবান্ধব কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলছে জাতিসংঘ; যদিও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে নারীদের অংশগ্রহণের হার এখনো মাত্র ৩০ শতাংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকারের প্যানেলের (আইপিসিসি) অন্যতম সদস্য পরিবেশবিদ ডায়ানা লিভারম্যান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তের ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণে নারীদের প্রায় ক্ষেত্রেই নিয়োজিত করা হয় না। এখানে পুরুষদেরই প্রাধান্য থাকে। সূত্র: বিবিসি