চট্টগ্রাম জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ইংরেজি ভাষার নামফলকের বিরুদ্ধে অভিযান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীতে হাইকোর্টের নির্দেশনায় ভিন্ন ভাষা তথা ইংরেজিতে লেখা নামফলক কালো রঙ দিয়ে মুছে দেয় হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ইংরেজি ভাষার নামফলকের বিরুদ্ধে অভিযান

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সিরাজউদ্দৌলা রোডের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার এবং স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে ইংরেজি নামফলকগুলো কালো রঙ দিয়ে মুছে দেয়া হয়।

চট্টগ্রামে ইংরেজি ভাষার নামফলকের বিরুদ্ধে অভিযান

হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে (১৬৯৬/২০১৪) প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় লেখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, সরকারি দপ্তরের নামফলক এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এ ছাড়া বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭-এর ৩ ধারায়ও সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ইংরেজি ভাষার নামফলকের বিরুদ্ধে অভিযান

আদালতের আদেশের তিন মাস পর ২০১৪ সালের ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকে আদেশটি কার্যকর করতে বলে। কিন্তু তা না হওয়ায় ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট আদালত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, বাংলা ব্যবহারে দৃশ্যত কোনও অগ্রগতি নেই।

পরে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইংরেজির স্থলে বাংলায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে দেখা যায় না। এটা বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, হাইকোর্টের রুল ও আদেশের পরিপন্থী।

জুমবাংলানিউজ/একেএ