ফেসবুক মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

‘আমার জন্য এই মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানো হচ্ছে’

জুমবাংলা ডেস্ক : আমি মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী (শোভন), বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্রকর্মী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলনকে ঘিরে, বিশেষ করে আমাকে ঘিরে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। আমার দাদা মরহুম শামসুল হক চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক(৬নং সেক্টর এর প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান), সংসদ সদস্য ১৯৭৩ ও ১৯৭৯।

শোভনতিনি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশকে পুনর্গঠিত করার জন্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করার জন্য ৭৫ পরবর্তী ১৯৭৭ সালে দেশ ও দলের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচন করেন। ২০০৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আমি আমার দাদাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান চাই। আমার নানা মরহুম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, তিনিও একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। আজ, আমার জন্য এই মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানো হচ্ছে। যা সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর ও চরম অসম্মানের। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর দায়িত্বে কারা ?

আমি চাইনা, আমার জন্য একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার অপবাদ দেওয়া হউক। আমার পদ-পদবীর চেয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের সম্মান লক্ষ কোটি গুণ। আমার বাবা, যিনি ১৯৮১ সালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ১৯৯১ সালে থানা যুবলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০০১ সালে থানা আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক(২০০১-২০১০) ও ২০১১ সালে পুনঃরায় থানা আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক (২০১১- অদ্যাবদি)। বর্তমানে তিনি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান । তিনিও অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত এজন্য যে মিথ্যা অজুহাতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

আমার মা কি পরিমান মর্মাহত তা লেখায় প্রকাশ করবার ভাষা আমার জানা নেই। আজ, শুধুমাত্র আমার কারণে (ছাত্রলীগ এর পদপ্রার্থী হবার কারণে) তার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে রাজাকার বলা হচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তর কি দিব তা আমার জানা নেই।
আজ যেখানে আদর্শিক আর অনাদর্শিকের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেখানে আমার ছাত্রলীগ করাটা এখন অপরাধ ।

প্রয়োজনে আমি আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করব। তবুও আপনারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আর কখনো রাজাকার বানানোর চেষ্টা করবেন না।এটা পাপ। আমার একমাত্র ছোট ভাই যে ঢাকা মহানগর দক্ষিন শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ।
প্রয়োজনে তাকেও ছাত্রলীগ করার প্রয়োজন নাই ।

আমি অবিবাহিত, আমার নামে কোনো প্রকারের মামলা নাই। আমি সংগঠন বিরোধী কোনো কাজ করিনি। তবে এতোটুকু বলতে পারি, আমি আর ছাত্রলীগ না করতে পারলেও আমি আমার পূর্বসূরিদের মতো, এ দেশ ও দলের (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ) জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও কাজ করে যাবো।

বেঈমানি আমি করব না, আমার রক্তে বেঈমানি নাই। এ রক্ত বেঈমানি করতে পারে না । ক্ষমা করবেন। কারণ আপনারা যা পারেন, আমি তা পারি না। এতটা নিচে আমি নামতে পারি না। সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বানাতে বিবেকে বাঁধে ।

তথ্যসূত্র : মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ফেসবুক থেকে নেওয়া।