জাতীয়

গুলশানে নৃশংস হামলা: নিবরাস-রোহানকে নিয়ে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য!

গুলশানে হলি আর্টিসানে হামলার আগে নব্য জেএমবির দুই সদস্য রোহান ইমতিয়াজ ও নিবরাস ইসলামকে নিয়ে নয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দারা। রোহান ইমতিয়াজ ও নিবরাসকে গ্রেনেড ছোড়ার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। হামলার সপ্তাহখানেক আগে তাদের সদরঘাটে নিয়ে বুড়িগঙ্গায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ দুই জঙ্গির প্রশিক্ষক ছিল রাশেদ নামের নব্য জেএমবির এক নেতা। হলি আর্টিসানের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নতুন এসব তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল রোববার এ তথ্য জানায়। আজ সোমবার জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদ সুত্রে এমনটাই জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, বুড়িগঙ্গায় গ্রেনেড প্রশিক্ষণের জন্য রাত ৯টার দিকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটি নৌকা ভাড়া করা হয়। নৌকার মাঝিসহ বুড়িগঙ্গার মাঝ-বরাবর গিয়ে প্রথমে একটি গ্রেনেড ছোড়ে রাশেদ। এরপর একই কৌশলে রোহানকে দ্বিতীয় গ্রেনেডটি ছোড়ার নির্দেশ দেয় রাশেদ। রোহান সেটা ছোড়ার সময় পায়ে সামান্য আঘাত পায়। গ্রেনেড ছোড়ার পর মাঝি তাদের কাছে কী ঘটছে জানতে চাইলে তাকে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলা হয়।

চিৎকার করলে মাঝিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর পর তৃতীয় গ্রেনেডটি ছোড়ে নিবরাস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষক রাশেদকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা খুঁজছে। তার গ্রামের বাড়ি উত্তরাঞ্চলে। সে পেশায় ছাত্র। এরই মধ্যে তার ব্যাপারে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। শিগগিরই তাকে গোয়েন্দা হেফাজতে আনার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, গুলশান হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড মিরপুরের শেওড়াপাড়ার যে বাসায় বানানো হয়েছিল, সেটিও শনাক্ত করা গেছে। গ্রেনেড তৈরি করেছিল সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেল।

গত ১ জুলাই রাতে জঙ্গিরা গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে ২০ দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং ওই রেস্তোরাঁর এক পাচক নিহত হয়। রেস্তোরাঁ থেকে আটক আরেক কর্মী জাকির হোসেন ওরফে শাওন পরে হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। অস্ত্রের উৎস, অর্থের জোগান, মদদদাতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশান হামলায় জড়িত অন্তত তিন/চার জঙ্গিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, হলি আর্টিসানে হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামীহ মোবাশ্বের, খায়রুল ও শফিকুলকে প্রথমে গাইবান্ধার বোনারপাড়ার একটি চরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখানে তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও শারীরিক কসরত শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকা থেকে ওই চরে গিয়েছিল নব্য জেএমবির সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম মারজান। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে জঙ্গিদের ঢাকায় আনা হয়।

একপর্যায়ে নব্য জেএমবির প্রশিক্ষিত এসব সদস্যকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় তোলা হয়। ওই বাসা থেকে রোহান ও নিবরাসকে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যায় রাশেদ। ওই সময় রোহানের সাংগঠনিক নাম ছিল ‘ইলবাবা’। বুড়িগঙ্গায় গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ শেষে তারা আবার বসুন্ধরার বাসায় ফিরে যায়। এর আগেই হোটেল আর্টিসান রেকি করে আসে তামিমসহ কয়েকজন। গুলশান পার্ক ও ওই এলাকার আরেকটি হোটেলসহ পাঁচটি স্থান হামলার জন্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সবার সিদ্ধান্তে টার্গেটস্থল হিসেবে হলি আর্টিসান চূড়ান্ত হয়। তাদের যুক্তি ছিল, অপেক্ষাকৃত কম নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে হলি আর্টিসানে একসঙ্গে অনেক বিদেশি নাগরিককে পাওয়া যাবে।

দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, হলি আর্টিসানে হামলার আগে নব্য জেএমবির সদস্যরা পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় বেশ কিছুদিন ভাড়ায় ছিল। ৪৪১/৮ নম্বরের ওই বাসার মালিক নুরুল ইসলাম। বাসাটির নিচতলায় হলি আর্টিসানে ব্যবহৃত ১১টি গ্রেনেডই তৈরি করেছিল পুরনো জেএমবির দুর্ধর্ষ নেতা সোহেল মাহফুজ। হলি আর্টিসানে হামলার রাতেও শেওড়াপাড়ার বাসায় অবস্থান করে তামিম ও মারজান নব্য জেএমবির সদস্যদের নানা নির্দেশনা দেয়। হলি আর্টিসানে রক্তাক্ত হামলার ঘটনার পর গোয়েন্দারা শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় অভিযান চালালেও ততক্ষণে আস্তানাটি থেকে পালিয়ে যায় তামিম ও মারজান। তবে ওই বাসা থেকে কয়েকটি তাজা গ্রেনেড ও কালো পোশাক উদ্ধার করা হয়েছিল। শেওড়াপাড়া থেকে পালিয়ে বাঁচলেও পরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে দুই সহযোগীসহ নিহত হয় তামিম চৌধুরী।

আরও পড়ুনঃ রক্তচক্ষুর সাইমন! (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.