অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

গর্ভবতী পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মানা হয় না আইন

মেহেদী হাসান দ্বীপ : দেশের পোশাক শিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভধারণের সময়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে সময় কাটায় তারা। তাছাড়া সময়মত মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকাও পায় না তারা।

তেজগাঁও শিল্প এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত নারী পোশাক শ্রমিক তাহমিনা। গর্ভবতী অবস্থায়ও তিনি কারখানায় নিয়মিত কাজ করছেন।

তাহমিনা বলেন, ‘আমরা যে কাজ করি সে জন্য শারিরীক (কায়িক) পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় এবং আমরা যদি আমাদেরকে দেয়া নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে না পারি তাহলে আমাদেরকে কতৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শেষ করতে দেরি হলে কারখানার লিফট বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন আমাদেরকে সিঁড়ি ব্যবহার করে নাম হয়। গর্ভবতী অবস্থায় আমাকে প্রতিনিয়ত কাজ নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। কোথাও কোনো অভিযোগ করার জায়গাও আমার নেই। যেহেতু এই কাজ করেই আমাকে পরিবার চালাতে হয় তাই আমি নীরবে সব মেনে নিছ্ছি।’

 

 

শ্রমিক আইনে ১৬ সপ্তাহ মাতৃত্ব-কালীন ছুটির কথা বলা থাকলেও ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর একটি পরিসংখ্যানে উঠে আসে, ২০১৮ সালে মাত্র ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ নারী পোশাক শ্রমিক পূর্ণ ৪ মাসের ছুটি পেয়েছে। আর ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছে তারা ৪ মাসের চেয়ে কম ছুটি পান।

তাহমিনা জানান, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটির বেতন প্রদান আরও আগে দেয়া উচিত। তাকে বলা হয়েছে মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা সে পুনরায় যোগদানের পর প্রদান করা হবে। আমার জন্য অনেক সুবিধা হতো যদি টাকাটা আমাকে আগে প্রদান করা হতো কারণ সামনে আমার খরচ বেশী।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানান, ‘যেহেতু মাতৃত্বকালীন ছুটি নারী শ্রমিকদের অধিকার তা অবশ্যই প্রদান করতে হবে।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফেকচারার এন্ড এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েশন(বিজিএমইএ) এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘কারখানার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ৮ সপ্তাহের বেতন ছুটি নেয়ার সময় এবং বাকি ৮ সপ্তাহের বেতন পুনরায় কাজে যোগদানের পর দেয়া হয়।’

শিশু জন্মদানের দুই মাসের মধ্যেই নারীকে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয় যা নারীর স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং শিশুর লালন পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

‘বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি’ এর সভাপতি তসলিমা আক্তার বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্প দেশের এমন একটি খাত যা নিয়ে দেশের মানুষ গর্ব বোধ করে। যারা এই শিল্পকে গড়ে তুলেছে তাদের নিয়েও গর্ববোধ করা উচিত।’

তিনি আরও দাবি জানান, দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কাজে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা উচিত, বিনামূল্যে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।

জুমবাংলানিউজ/ এমএইচডি