Exceptional মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার শিক্ষনীয় গল্প শিল্প ও সাহিত্য

সুখী হতে কেমন সঙ্গী চাই আমাদের? (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৯)

এক্সেপশনাল ডেস্ক :: গ্রীষ্মের ভরদুপুর। ঘড়িতে সময় ঠিক ২টা। ক্যালিফোর্নিয়ায় তখন প্রচণ্ড গরম। নিঃশ্বাস নেওয়ার বাতাসটুকুও যেন আগুন। এরই মধ্যে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছে মাইকেল। সদ্য আটের কোঠায় পা দেওয়া ছেলেটা অনেক দিন ধরেই পোষার জন্য একটা কুকুর কেনার কথা ভাবছে। সে যখন তার বন্ধুদের নিজ নিজ পোষা প্রাণির সাথে খেলতে দেখে, তখন খুব মন খারাপ হয় তার। মাইকেলেরও তো ইচ্ছে হয়, তার একটি পোষা কুকুর থাকবে; সেই কুকুরের সাথে সারাদিন খেলবে; অনেক মজা করবে!

মাইকেল এসব ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে যায়। হঠাৎ এক দোকানে গিয়ে চোখ আটকে যায় তার। দোকানের দরজায় বড় করে লেখা, ‘এখানে নতুন পোষা কুকুর বিক্রি হয়।’

সাতপাঁচ না ভেবেই সোজা দোকানের ভেতর চলে গেলো মাইকেল। কৌতুহল নিয়ে সে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘আঙ্কেল, কত দামের মধ্যে এখানে পোষা কুকুর কিনতে পাওয়া যায়?’ উত্তর এলো, ‘চার থেকে পাঁচ হাজার ডলার।’

শুরুতেই মাইকেল হতাশ হয়ে গেলো। কারণ সে গরীব পরিবারের ছেলে। এত ডলার সে কোথায় পাবে!

মন খারাপ করে বের হয়ে যাবে, এমন সময় হঠাৎ একটি কুকুরকে দেখে মাইকেল দাঁড়িয়ে গেল। কুকুরের মধ্যে কী এমন আছে, যা দেখে মাইকেল স্তব্ধ হয়ে গেলো? আসলে কুকুরটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলো। নিজের কৌতুহল সামলাতে না পেরে সে দোকানদারকে সরাসরি ওই কুকরটার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। দোকানদার জানালো, জন্ম থেকেই কুকুরটির বাম পা খোঁড়া। তাই সে আর কোনও দিনই ঠিকমতো হাঁটতে পারবে না।

কুকুরটার প্রতি অনেক মায়া হলো মাইকেলের। কুকুরটিও যেন তার দিকেই অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। যেন মাইকেলের মনের কথা বুঝতে পারছে সে। মাইকেল খানিক সময় কী যেন ভাবলো। তারপর দোকানদারকে বললো, ‘আমার এ কুকুরটাই চাই। যত দামই হোক।’

দোকানদার এ কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো। যে কুকুর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে, ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, দৌড়াতে পারে না, তাকে আবার কে কিনবে! ছেলেটির মাথা ঠিক আছে তো! এবার দোকানদার বললো, ‘এই কুকুর তো কোনও দিনই তোমার সাথে হাঁটতে পারবে না; দৌড়াতে পারবে না; আজীবন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে।

মাইকেল আরও দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিলো, ‘আমি আপনাকে পুরো দাম দিতে প্রস্তুত। দরকার হলে ধার করবো। তবুও ওই কুকুরই আমার চাই।’

‘কিন্তু খোকা, খুঁড়িয়ে চলা কুকুর একই দামে কিনতে চাইছো কেন, জানতে পারি? কেন তুমি একে নেওয়ার জন্য এত অস্থির হচ্ছো?’, দোকানদারের জিজ্ঞাসা।

এ প্রশ্নের জবাব মাইকেল যেভাবে দিলো, তার জন্য দোকানদার মোটেই প্রস্তুত ছিলো না। মাইকেল প্যান্ট উঁচিয়ে দেখালো, তার বাঁ পায়ের হাঁটুতে একটি লোহার যন্ত্র লাগানো। তার মানে হচ্ছে, ওই লোহার যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া সে নিজেও ঠিকমতো হাঁটতে অথবা দৌড়াতে পারে না। এরপর সে  দোকানদারকে বললো, ‘ঈশ্বর আমাকেও পঙ্গু করেছেন, পাশাপাশি কুকুরটিকেও! সে আমার দুঃখ বুঝবে! আর তার কষ্ট বুঝবো আমি! আমি নিশ্চিত, সে আমার সঙ্গী হলেই আমি সুখী হবো! ‘

প্রিয় পাঠক, এখন ভাবুন তো, এ গল্পে শিক্ষণীয় কী আছে?

হ্যাঁ, যা শেখার আছে, তা হলো- যখন দুই ব্যক্তি একই ধরনের সমস্যায় পড়েন, অথবা একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান, তখন তারা একজন আরেকজনকে ভালো বুঝতে পারেন। এমনকি এরা উভয়ের প্রতি অন্তর থেকে টানও অনুভব করেন। এ সম্পর্ক ব্যক্তি ও প্রাণির মধ্যেও হতে পারে। ঠিক যেমন মাইকেল আর তার কেনা কুকুরের মধ্যে হয়েছিলো। তারা দু’জনই ছিল পঙ্গু। কেউই ঠিকমতো হাঁটতে ও দৌড়াতে পারতো না। এজন্য মাইকেল কুকুরটার অন্তরের ব্যথা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো।

ভাষান্তর : ইউসুফ হাসান পারভেজ, পরিমার্জন : জুবায়ের জুয়েল

আরও পড়ুন :

হাতির পায়ে দড়ি (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-১)

বুড়ো জমিদারের নজর পড়েছিল ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-২)

একদল ব্যাঙ লাফিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ দুইটি ব্যাঙ বড় একটি গর্তে পড়ে যায়! (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৩)

এক গ্রামে ছিলো এক মাখন বিক্রেতা, তিনি নিয়ম করে রুটিওয়ালার কাছে যেতেন (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৪)

পাথরের নিচে চাপা দেয়া সে থলির মধ্যে ছিলো অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৫)

তার ধারণা ছিলো, অত সুন্দর মোহনীয় রূপ দেখে নিশ্চয় কেউ দয়া করবে! (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৬)

মা হারানো ছেলেটার ক্রোধে জল ঢালবে কে? (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৭)

‘মুক্ত মানুষ’ চোখ দান করলো, ‘চাঁদের দেবী’ কথা রাখলো না (জীবন বদলে দেওয়া গল্প-৮)

আগামীকাল আসছে জীবন বদলে দেওয়া গল্প-১০

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড