slider জাতীয় রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যে কৌশলের কথা বললেন ব্যারিস্টার মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুব শিগগিরই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। একইসাথে আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বুধবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আজ আদালত তার জামিন বহাল রেখেছেন। কিন্তু অন্য যে কোনো মামলায় সরকার যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে জেলে রাখার চেষ্টা করে, তাহলে তা আমরা আইনগতভাবে মোকাবেলা করব। এবং আমরা আশাবাদী, অতি শীঘ্রই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।’

বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। সেই সঙ্গে আদালত এই মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য জামিন প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে শুনানি আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে এই মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সেই সঙ্গে খালেদা তারেকসহ দণ্ডিত সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।

এই রায়ের পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল ও জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

এরপর গত ১২ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।

কিন্তু হাইকোর্টের দেয়া সে জামিন বাতিল চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন। এবং গত ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা সে আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন।

এরপর গত ৮ ও ৯ মে খালেদার জামিন বাতিল চেয়ে করা আপিলের শুনানি হয়। এরপর আদালত জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন। কিন্তু ১৫ মে সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আরো কিছু বিষয়ে শুনানি করার আবেদন জানান। এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানি গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।