বিনোদন

কয়েক মাসের ব্যাবধানে ১৩ কেজি ওজন কমিয়েছেন শবনম বুবলি

শবনম বুবলি, অল্প সময়েই ঢাকাই ছবিতে নিজের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছেন। শুরু থেকেই অভিনয় ও ফিল্মি জগতের আলোচনার মধ্যমণি হয়েই আছেন। যেমনটা দরকার। শুরুটা ২০১৬ সালে। সেই থেকে শুরু। কত কী দেখতে হয়েছে এই অল্প সময়ে। তারপরও নিজের লক্ষ্যে অবিচল। অভিনয় এবং ব্যক্তিজীবন-প্রত্যেকটি বিষয়েই বেশ সচেতন তিনি। হিসেব-নিকেশ করেই পথ চলেন। আর যদি বলা হয় ফিটনেসের কথা, সেখানেও একই কথা প্রযোজ্য।

নিয়ম মেনেই প্রতিদিনের খাবার খান। একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা সচেতন হতে হয়, পুরোপুরি সেটি না পারলেও তিনি সাধ্যমত চেষ্টা করেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার থাকে তার। দোকানে তৈরি ফাস্টফুড বা রেডিমেট খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি, সচেতনভাবেই। বুবলি ফিটনেস সচেতন হলেও শতভাগ ডায়েট করেন না।

তার ভাষায়, বলা চলে ফিফটি ফিফটি। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলো বরাবরই এড়িয়ে চলেন তিনি। তবে খাবারের তালিকায় সব সময় থাকে পছন্দসই ফ্রেশ জুস, ভেজিটেবল আর গ্রিন সালাদ। শুটিং কিংবা অন্যান্য ব্যস্ততা না থাকলে রুটিন করেই জিমে যান। আর বাসায় থাকলে সকালে এবং বিকেলে ইয়োগা করেন। এ কথা বলতে গিয়ে জানালেন নতুন এক তথ্য। ইয়োগার ৪২টা আসন জানেন এ নায়িকা।
এদিকে অভিনয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে কাটাতে শরীরে যে মেদ জমেছে সেটা বুঝতেই পারেননি। হঠাৎ করেই টের পেলেন অতিরিক্ত মেদ তাকে শ্রীহীন করে তুলছে। তারপরই শুরু হলো কঠিন সাধনা। সেটি ওজন কমানোর। তবে বুবলির মধ্যে যে পরিববর্তনটা এখন দেখতে পাচ্ছেন, সেটি কিন্তু অল্প সময়ে আসে নি। বহু পরিশ্রমের ফসল। আর ওজন কমানো কী সহজ কথা? ব্যাপারটা যে কঠিন, সেটা শবনম বুবলি নিজেও স্বীকার করেছেন। কতটা কষ্ট করতে হয়েছে এর জন্য।

কথা প্রসঙ্গে আলোচিত এ নায়িকা জানালেন, বিগত কয়েক মাসে ১৩ কেজি ওজন কমিয়েছেন এ নায়িকা। তার মধ্যে গত দুই মাসেই কমিয়েছেন ৯ কেজি। যদিও মধ্যিখানে শবনম বুবলি ‘অহংকার’ ছবিটির চরিত্রটির জন্য কিছুটা ওজন বাড়িয়েছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এ নায়িকা মনে করেন, শুধু শিল্পী নন, সাধারণ মানুষেরও ফিটনেসের বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। এর কারণ হিসেবে বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য সবার আগে শারীরিকভাবে ফিট রাখা জরুরি।’

আর এতোটা ওজন কমানোর পর বেশ স্বস্তিবোধ করছেন বুবলি। এরজন্য প্রথমে লোভ সংবরণ করতে হয়েছে। চোখের সামনে সুস্বাদু সব খাবার। জিভে জল। কিন্তু না, চোখের লোভকে চোখেই থাকতে দেওয়া হয়েছে, জিভ পর্যন্ত নেমে আসার কোনো সুযোগ নেই। তার মাথায় ছিল একজন অভিনেত্রীর অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সৌন্দর্য থাকাটাও জরুরি।

এদিকে আসছে ঈদে ‘অহংকার’ ও ‘রংবাজ’ নামে দুটো ছবি নিয়ে বড় পর্দায় আসছেন শবনম বুবলী। সহশিল্পী শাকিব খান। আর ছবি মুক্তির আগেই এ ছবি দুটো নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা। আর জুটি প্রথার দিক থেকে নতুন এক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গত কয়েকদিন আগে বুবলি ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ নামে নতুন একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ ছবিতেও নায়ক হিসেবে থাকছেন শাকিব খান। ছবিটি নির্মাণ করবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা উত্তম আকাশ।

২০১৬ সালে ‘বসগিরি’ চলচ্চিত্রটি দিয়ে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন শবনম বুবলি। যদিও ছবিটিতে অপু বিশ্বাসের অভিনয় করার কথা ছিল। পরে অপু নিজেকে এই চলচ্চিত্র থেকে সরিয়ে নেন। তার স্থানে বুবলিকে নির্বাচন করা হয়। এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান। এই ছবির শুটিং চলাকালীন তিনি ‘শুটার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাজু চৌধুরী এবং এই ছবিতেও তার বিপরীতে ছিলেন শাকিব খান।