ইসলাম ধর্ম

ক্ষমা ও সহনশীলতা আমাদের রাসূল সা:-এর আদর্শ

দয়া, মায়া ও করুণার মূর্তপ্রতীক রাসূলুল্লাহ সা:। ক্ষমা ও সহনশীলতার যে অনুপম দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করে গেছেন তা আবহমানকাল ধরে ইসলামি দুনিয়াকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। দুঃখের বিষয় হলো, রাসূল সা:-এর পবিত্র জীবন চরিত্র থেকে আমরা আমাদের সুবিধামতো অনেক কিছু নিয়ে থাকি বা অনুসরণ করে থাকি কিন্তুরাসূল সা:-এর অন্যতম এ গুণটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশির ভাগ সদস্যদের মাঝে পরিলক্ষিত হয় না। একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য এর নির্মাণ কর্মীদের মধ্যে যতগুলো মৌলিক গুণের প্রয়োজন তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষমা ও সহনশীলতা।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘হে নবী! ক্ষমা করো। ভালো পথ নির্দেশ করো এবং মূর্খদের থেকে দূরে থাকো।’ (আরাফ : ১৯৯) ইসলামি জীবনব্যবস্থার আহ্বায়কদের জন্য যে গুণগুলো অপরিহার্য কোমল স্বভাব, সহিষ্ণু ও ক্ষমা তার মধ্যে অন্যতম। নিজের সঙ্গী-সহযোগীদের জন্যে স্নেহশীল ও সাধারণ মানুষের জন্য দয়াদ্র এবং নিজের বিরোধীদের জন্যে সহিষ্ণু। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এ গুণটি অত্যন্ত প্রয়োজন। আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, ‘আমার রব আমাকে হুকুম দিয়েছেন, আমি যেন ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই ইনসাফের কথা বলি, যে আমান সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে তার সাথে সম্পর্ক জুড়ি, যে আমাকে আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাকে তার অধিকার দান করি, যে আমার প্রতি জুলুম করে আমি তাকে মাফ করে দেই। ইসলামের কাজে যাদের পাঠাতেন তাদেরও এ একই বিষয়গুলো মেনে চলার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলেনÑ ‘যেখানে তোমরা যাবে সেখানে তোমাদের পদার্পণ যেন লোকদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে দেখা দেয়, তা যেন লোকদের মধ্যে ঘৃণার সঞ্চার না করে। লোকদের জীবন যেন তোমাদের কারণে সহজ হয়ে যায়, কঠিন ও সঙ্কীর্ণ হয়ে না পড়ে।’
মক্কা বিজিত হলো। প্রিয় জন্মভূমি মক্কার হারেম শরিফে দাঁড়িয়ে আছেন মজলুম মানবতার মজলুম নবী মুহাম্মদ সা:। যেখান থেকে তিনি বিতারিত হয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে গালি দেয়া হয়েছিল, যেখানে তাঁর ওপর নাপাক বস্তু নিক্ষেপ হয়েছিল, যেখানে তাঁকে বহুবার হত্যার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, যেখানে তাঁর ওপর প্রস্তর নিক্ষেপ করা হতো, চলার পথে কাঁটা বিছানো হতো, যারা তাঁর বিরুদ্ধে তরবারি উত্তোলন করেছিল, তাঁর আত্মীয়ের বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃৎপিণ্ড ও নাড়িভুঁড়ি কেটে টুকরা টুকরা করেছিল, যেখানে অসহায় দরিদ্র মুসলমানদের তপ্ত বালিকায় শুইয়ে দিয়ে পাথর চাপা দিত, জলন্ত কয়লা দিয়ে তাঁদের অঙ্গে দাগ দিত, বর্শাঘাতে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করত। এসব অপরাধীদের দল সেদিন পরাজিত ও পর্যদুস্ত অবস্থায় সামনে দাঁড়িয়েছিল। পেছনে দশ হাজার রক্তপিপাসু তরবারি শুধু মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা:-এর একটি ইঙ্গিতের অপেক্ষায় ছিল। অকস্মাৎ তিনি মুখ খুললেন এবং জিজ্ঞেস করলেন:‘হে কুরাইশরাগণ! বলো, আজ তোমাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত। জবাব এলো ‘মুহাম্মদ! তুমি আমাদের শরিক ভাই ও শরিক ভাতিজা।’ রাসূলুল্লাহ সা: বললেন: আজ আমি তোমাদের তাই বলছি যা হজরত ইউসুফ আ: তাঁর জালিম ভাইদের বলেছিল। অর্থাৎ ‘আজকের দিনে তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’ যাও, ‘তোমরা সবাই আজ মুক্ত।’
এ হলো শত্রুদের ভালোবাসার ও মাফ করে দেয়ার জলন্ত দৃষ্টান্ত। এ হচ্ছে নবী আকরাম সা:-এর বাস্তব আদর্শ ও বাস্তব শিক্ষা। নি¤েœ রাসূলুল্লাহ সা:-এর ক্ষমা ও সহনশীলতার কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো।
? তায়েফের নাম অনেকেই শুনেছেন। মক্কা থেকে ৬৫ কি:মি দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ শহর। এ সেই তায়েফ, রাসূল সা:-এর জীবন চরিতে সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের কয়েকটা ঘণ্টা বা একটি দিন এখানে জড়িয়ে আছে। তায়েফ ঘটনার ৯ বছর পর একদিন হজরত আয়েশা রা: জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘ হে আল্লাহর রাসূল সা:! উহুদের কঠিন সময়ের চেয়ে আরো মারাত্মক কোনো কঠিন ও কষ্টকর দিন এসেছিল কি? ‘জবাবে তিনি বলেছিলেন, হে আয়েশা? তোমার সম্প্রদায় কুরাইশদের পক্ষ থেকে আমার জীবনে বহু আপদ-বিপদ এসেছে। তন্মধ্যে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল ‘আকাবা’ বা তায়েফের দিন। সেদিন আমি আবদ ইয়ালির ইবনে আবদে কুলালের কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম। কিন্তু আমি তার কাছে যা চেয়েছিলাম, তা সে দিতে অস্বীকৃতি জানাল। আমি নিরাশ হয়ে নিতান্ত চিন্তিত মনে সেখান থেকে ফিরে এলাম। করনুস সায়ালিবে পৌঁছে যখন চিন্তা একটু হালকা হলো, তখন আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে জিবরাইল আ:-কে তথায় উপবিষ্ট দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার জাতি আপনার সঙ্গে যে কথাবার্তা বলেছে এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ ভঙ্গীতে আপনার দাওয়াতের জবাব দিয়েছে আল্লাহ সবই শুনেছেন। এখন আল্লাহ পাহাড়গুলোর তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ফেরেশতাদের আপনার কাছে পাঠাচ্ছেন। দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীদের শাস্তি বিধানের জন্য আপনি তাদের যে হুকুম করবেন তারা দ্বিধাহীন চিত্তে সে হুকুম পালন করবে। এরপর পাহাড়গুলোর ফেরেশতারা আমাকে আওয়াজ দিলো। সালাম জানিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ! আপনার জাতির লোকজন আপনার সাথে যে কথাবার্তা বলেছে আল্লাহ তা সবই শুনেছেন। আমরা পাহাড়গুলোর তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত আছি। আল্লাহ আমাদেরকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনার জাতির শাস্তি বিধানের জন্য আমাদেরকে যে আদেশ দেবেন তা এখনি পালন করবো। আপনি যদি বলেন, তাহলে এ দুই দিকের পাহাড়গুলোকে এমনভাবে মিলিয়ে দেবো যে, মাঝখানে সব অধিবাসী পিষে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। রাসূল সা: এর জবাবে বললেন, না, বরং আমি আশা করছি যে তাদের সন্তানাদির মধ্যে এমন লোক জন্ম নেবে যারা শুধু আল্লাহর বন্দেগিই করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।(বুখারি-মুসলিম) এ হাদিসটিতে একটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার এই যে, পুরো হাদিসটির কোথাও রাসূলের ওপর যে অকথ্য ও অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছিল তা তিনি বর্ণনা করেননি। এটিও একজন সহনশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। এ তায়েফে আবদে ইয়ালিল রাসূলুল্লাহর ওপর গুণ্ডাবাহিনী লেলিয়ে দিয়েছিল। এদের পাথরের আঘাতে আঘাতে তিনি রক্তাক্ত ও বেহুস হয়ে পড়েছিলেন। শহরের গুণ্ডাদল চারদিকে থেকে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর সর্দাররা দুরে দাঁড়িয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সা: যখন মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন- দু’দিক থেকে তাঁর ওপর পাথর বর্ষিত হচ্ছিল। এমনকি তাঁর পবিত্র পদযুগল আহত হয়ে গিয়েছিল এবং জুতা রক্তে ভরে উঠেছিল। তিনি ক্লান্ত হয়ে যখন বসে পড়ছিলেন, তখন সেই দুষ্টের দল তাঁর হাত ধরে তুলে দিচ্ছিল। তিনি আবার চলতে শুরু করলে ওরা পাথর বর্ষণ করতো। এরপরও সহনশীলতার পরাকাষ্ঠা তিনি প্রদর্শন করে তাদের শাস্তি দেয়ার অনুমতি তিনি দেননি।
অষ্টম হিজরিতে তায়েফ অবরোধের সময় মুসলমানরা তায়েফের জন্য বদদোয়ার আবেদন করলে তিনি হাত উঠিয়ে বললেন : ‘হে আল্লাহ তায়েফকে তুমি হেদায়াত করো এবং ইসলামের কাছে নত করো। প্রিয় পাঠকরা! কোন শহরের জন্য তিনি এ দোয়া করছেন? যে শহরে তাঁকে পাথর নিক্ষেপে রক্তাক্ত করেছিল।
? হিজরতের প্রাক্কালে কুরাইশ সর্দারদের পুরস্কারের লোভে সুরাকা ইবনে জা’সাস মুহাম্মদের সা: শিরñেদ করার জন্য তাঁর পেছনে ঘোড়া ছুটাল। সে কাছে পৌঁছে গেল। হজরত আবু বকর শঙ্কিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সা: দোয়া করলেন। তিনবার সুরাকার ঘোড়ার পা বালিতে বসে গেল। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সে দূর্বল ও ভীত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সা: কে ডেকে সে প্রাণ রক্ষার জন্য আবেদন জানিয়ে বলল : যখন আপনাকে আল্লাহ কুরাইশদের ওপর বিজয় দান করবেন, তখন অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করবেন। মক্কা বিজয়ের পর সে ইসলাম গ্রহণ করল। রাসূলুল্লাহ সা: তাকে সেদিন তার অপরাধ সম্পর্কে কোনো কিছু জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেননি।
? আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত যার অপরাধের কোনো সীমা ছিল না। বদও, উহুদ ও খন্দক প্রভৃতি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহর সা:-এর বিপরীতে কাফের সেনাদলের সর্দার ছিল। যে ব্যক্তি হাজার হাজার মুসলমানের জীবননাশের কারণ। যে কয়েকবারই রাসূলুল্লাহ সা: কে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। যে ব্যক্তি পদে পদে ইসলামের ঘোরতর শত্রু প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পূর্বে যখন হজরত আব্বাস রা: রাসূলুল্লাহ সা: সামনে তাকে হাজির করলেন, তখন তার প্রতিটি অপরাধ মুত্যুদণ্ডের দাবি করছিল, তবুও করুণার মূর্তপ্রতীক রাসূলুল্লাহ সা: আবু সুফিয়ানকে বললেন- ‘ভয়ে করো না, মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা: প্রতিশোধ গ্রহণের অনেক ঊর্ধ্বে।’ রাসূলুল্লাহ সা: তাঁকে শুধু ক্ষমাই করলেন না, বরং এও ঘোষণা দিলেন, ‘যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সেও নিরাপত্তা লাভ করবে।’
? হিন্দা জাহিলিয়াতে উগ্র, বিকৃত ও চরম হিংস্র মানসিকতার এক মহিলার নাম। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী। উহুদে যিনি তার বান্ধবীদের নিয়ে রণোন্মদনার গান গেয়ে কুরাইশ সেনাদের মনোবল বৃদ্ধি করেছিল। রাসূলুল্লাহর সা: অত্যন্ত প্রিয়ভাজন প্রিয়তম চাচা ও ইসলামের বীর যোদ্ধা হজরত হামজার রা: লাশের সাথে চরম বেআদবি করেছিল এ মহিলা। সাইয়েদুশ শুহাদার নাক-কান কেটে হার বানিয়েছিল এবং বুক চিরে কলিজা বের করে দাঁত দিয়ে চিবোতে চাচ্ছিল। যুদ্ধ শেষে এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সা: অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন সেও ঘোমটায় মুখ ঢেকে রাসূলুল্লাহর সা: -এর সামনে হাজির হলো। রাসূলুল্লাহ একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করলেন না তুমি এমনটি করলে কেন? এই সার্বজনীন ক্ষমার অদ্ভূত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে সে চিৎকার করে বলে উঠল: হে মুহাম্মদ! আজকের আগে আমার কাছে তোমার ক্ষমার চাইতে অন্য কারো ক্ষমা অধিক ঘৃণ্য ছিল না, কিন্তু আজ তোমার ক্ষমার চাইতে প্রিয় ক্ষমা অন্য কারো ক্ষমা নয়।’
? হেবার ইবনুল আসওয়াদ একদিকে রাসূল-দুহিতা হজরত জয়নব রা: এর হত্যাকারী ছাড়াও ইসলামের আরো বহু ক্ষতি করেছে। মক্কা বিজয়ের সময় তার রক্ত হালাল ঘোষণা হলে সে ইরানে পালিয়ে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু পরে কি চিন্তা করে সোজা রাসূলুল্লাহর সা: দরবারে হাজির হলো এবং বলল- হে আল্লাহর রাসূল সা:! আমি ধৈর্যের কথা স্মরণ করে ফিরে এলাম। আমার অপরাধের যে সব বর্ণনা আপনি শুনেছেন তা সত্য। একটুকু শুনতেই তাঁর রহমতের দুয়ার খুলে গেল এবং তিনি মাফ করে দিলেন।
? উমার ইবনে ওহাব বদর যুদ্ধের পর জনৈক কুরাইশ সর্দারের ষড়যন্ত্রে নিজের তরবারিতে বিষ মাখিয়ে মদীনায় প্রবেশ করলো এবং সুযোগ মতো রাসুলুল্লাহ স: কে হত্যা করার অপেক্ষায় রইল। এই সময়ে হঠাৎ একদিন সে গ্রেফতার হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহর স: সামনে হাজির করা হলো এবং তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তিনি তাকে মুক্তিদান করলেন।
? সাফওয়ান ইবনে উমাইর রাসূলুলাহ সা:-কে হত্যা করা জন্য উমাইরকে পাঠিয়েছিল এবং তার সাথে ওয়াদা করেছিল যে, এ অভিযানে যদি সে নিহত হয়, তাহলে তার পরিবারবর্গ ও ঋণের দায়িত্ব সে গ্রহণ করবে। মক্কা বিজয়ের পর সাফওয়ান ভয়ে জেদ্দা পালিয়ে গেল। তার উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র পথে ইয়েমেনে চলে যাবে। উমাইর রাসূলুল্লাহর সা: দরবারে হাজির হয়ে বললো- হে আল্লাহর রাসূল! গোত্র প্রধান সাফওয়ান ভয়ে পলায়ন করেছে, সে নিজেকে সমুদ্রের বুকে নিক্ষেপ করতে চায়। জবাব দিলেন, যাও তাকে বলো- তাকে নিরাপত্তা দান করা হলো। উমাইর বললো- এ নিরাপত্তার একটি প্রতীক দান করুন। তিনি নিজের পাগড়ি দান করলেন। পাগড়ি নিয়ে উমাইর সাফওয়ানের কাছে পৌঁছল। সাফওয়ান বললোÑ আমি প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি। উমাইর তাকে অনেক বুঝানোর পর তাকে রাসূলুল্লাহ সা: দরবারে নিয়ে এলেন। সাফওয়ান বললো, শুনেছি তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান করেছো এ কথা কি সত্য? বললেন, হ্যাঁ সত্য।
এ ধরনের আরো বহু ক্ষমার দৃষ্টান্ত রাসূল সা: এর জীবন চরিতের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের নেতৃত্বের জন্য এ কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো যাতে একটু ক্ষমতা পেয়ে মানুষের জীবনকে বিষিয়ে না তোলেন। রাসূল সা:-এর সুন্নাহকে অনুসরণ করে ক্ষমা ও সহনশীলতার মতো মৌলিক গুণে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

ভিডিও:মা-শা-আল্লাহ দেখুন কোরআনুল কারিম কিভাবে ছাপানো হয় (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment



সর্বশেষ খবর