আন্তর্জাতিক

কে এই হামলাকারী?

মসজিদ হামলার ঘটনায় থমকে গেছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। এ হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে হামলাকারী নিজেই মসজিদে নূরে হামলার ঘটনাটির সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছেন। লাইভে এসে তিনি ওই হামলা চালান।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চ শহরের হেজলে পার্ক ডিস্ট্রিকের ডিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আল নূর মসজিদে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এসময় লিনউড এলাকার এক মসজিদেও হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দ্বিতীয় হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছে।

এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ড বলছে, হামলার সময় ধারণকৃত ওই ভিডিওতে দেখা হামলাকারী মসজিদের এক পাশে গাড়িটি রেখে নেমে আসছেন। এরপর মসজিদের নামাজরত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে রাইফেল থেকে গুলি করতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ মিনিট ধরে রাইফেল থেকে গুলি চালাতে থাকেন বন্দুকধারী।

ওই দুর্ধর্ষ খুনী গুলি করার দৃশ্যটি নিজেই ভিডিও করেন এবং ‘মেনিফেস্টো’ শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। ওই ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারীর নাম ব্রেটন টারান্ট। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া ওই ব্যক্তি এই নামেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, এটি তার আসল নাম নয়। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে ওই ব্যক্তি কী কারণে এ হামলা চালিয়েছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে নিউজিল্যান্ড পুলিশ একে ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে দেখছে।

হামলা সম্পর্কে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, ‘এই বন্দুক হামলার পর ক্রিস্টচার্চ মসজিদে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তবে এখনও ঝুঁকি কাটেনি।’

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি