ধর্ম মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার হিন্দু

কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং

রুমন ভট্টাচার্য : আজ শুভ জন্মাষ্টমী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন। পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার বেড়ে যায়, তখনই ভগবান বা ঈশ্বর কোনও না কোনও রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ঠিক যেমন দ্বাপর যুগের রোহনী নক্ষত্রের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।

মানব প্রেমে উদ্ভাসিত হয়ে দুষ্টদের দমন করে শিষ্টের রক্ষা করা তথা ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এ  এ কারণে তিনি হলেন ‘মহাবতার’।  আবার পৃথিবীতে ধর্মের মহিমা এবং ভক্তের প্রতি ভগবানের প্রেমের মহিমা বাড়ানোর জন্য মর্তে মানবরূপে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা। এ কারণে তিনি ‘প্রেমাবতার’ নামেও পরিচিত। এছাড়াও শত নাম রয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের।

janmashtomi

পুরাকালে মথুরার রাজা ছিলেন উগ্রসেন এবং তার ছেলে ছিলেন কংস। রাজা উগ্রসেন ছিলেন ধার্মিক। কিন্তু কংস ছিলো অত্যাচারী তথা অধার্মিক। সেই দুরাচারের অত্যাচারে পৃথিবী ছারখার হতে থাকল। দেবতারা মহাদেবের শরণাপন্ন হন। মহাদেব শিব দেবতাদের নিয়ে ব্রহ্মার কাছে যান। ব্রহ্মা দেবতাদের নিয়ে ক্ষীর সাগরে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে নারায়নের স্তব করতে থাকেন। তুষ্ট হয়ে নারায়ণ আগমনের হেতু জানতে চান। ব্রহ্মা তাঁকে বলেন, শিবের বর পেয়ে কংসাসুর খুবই অত্যাচারী হয়ে উঠেছে। আপনি তাকে দমন করুন। দেবকীর উদরে জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীর দুঃখ-দুর্দশা মোচন করুন। এই শুনে মথুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন নারায়ণ।

কংসের কারাগারে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেদিনের রাত ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। ঝড়-বৃষ্টি বজ্রঘাতে সবাই কাতর ছিল। তখন অলৌকিকভাবেই সবকিছুই ঘটতে থাকে। জন্মমাত্র বাসুদেব গোপনে কৃষ্ণকে অনেক দূরে বৃন্দাবনে জনৈক নন্দ গোপের ঘরে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে আসেন। সেখানে দৈব ইচ্ছায় পদ্মার গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রী রাধিকা।

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে শ্রীকৃষ্ণ জন্মের পরম লগ্নটি সূচিত হয়েছিল ধরিত্রীর বুকে। ঈশ্বর যখন স্বয়ং অবতীর্ণ হন, তখন তাঁকে বলা হয় পূর্ণাবতার। ঈশ্বর পূর্ণাবতাররূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নামে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এজন্যই শ্রীমদ্ভগবদ্ পুরাণে বলা হয়েছে ‘কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং’।

লেখক : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড



সর্বশেষ খবর