Default বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

কুড়িগ্রামে নদীর পানি বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপরে

কুড়িগ্রামের ফুালবাড়ীতে সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ভয়াবহতায় নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন বন্যার্তরা। আজ রবিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত পাঁচদিন ধরে  পানি বুদ্ধির কারণে  উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিম্নাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গবাদি পশু এবং অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে বন্যার্তরা। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আরও ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। গোরকমন্ডল ও বালাহাট বিওপি ক্যাম্পে পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করায় বন্যাকবলিতরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে।

বালারহাট বাজার সংলগ্ন নাওডাঙ্গা ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় চার শতাধিক বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিলেও শনিবার রাত থেকে তারা কোনও খাবার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। একই  অভিযোগ করেছেন গোরকমন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া হাজারো বন্যার্ত মানুষ।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বালারহাট-ফুলবাড়ী সড়কের পূর্বতন পাকদমতোলা মোড়ের কাছে একটি অংশ দেবে যাওয়া এবং সড়কে হাঁটুর উপরে পানি থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আমার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষ দিশেহারা হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। আমরা মাঠে রয়েছি মানুষদের সহায়তার জন্য।
তিনি আরো জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের শুকনো খাবার সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।



সর্বশেষ খবর