ক্যাম্পাস জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

কুবি শিক্ষার্থী ময়নুলের মুক্তি না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা

কুবি প্রতিনিধি: ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগে আটক হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুল ইসলাম আবিরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় নিরপরাধ শিক্ষার্থী মইনুলের মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন সগীর আহমেদ, শামীম আহমেদ, শাখাওয়াত হোসেন শাওন, ওসমান জয় মানিক, হামিদ কাউসার জীবন ও আদনান কবির সৈকত।

বক্তব্যে ডিভেটিং সোসাইটির সভাপতি আদনান কবির সৈকত বলেন, ‘যে আইনের অধীনে অপরাধীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তি দিবে, সেই একই আইনেই নিরপরাধ আবিরকে মুক্ত করতে হবে।’

হামিদ কাউসার জীবন তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা আমাদের অভিভাবক হিসেবেই মানি, নিরপরাধ কাউকে কেনই বা শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রশাসন কেন দায়ছাড়াভাবে থাকবে। কেন আমাদের সব কিছুর জন্য মানববন্ধন করতে হবে। এটা তো প্রশাসন সমাধান করার কথা।’

শিক্ষার্থীরা নিরপরাধ আবিরের মুক্তির দাবিতে তখন বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত পোস্টার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অবস্থান করেন। ‘দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করুন’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই মইনুলের মুক্তি চাই’, ‘নিরপরাধ মইনুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ ও ‘জীবিত দেহ মৃত প্রাণ করো না আর অপমান’ এসব স্লোগান উচ্চারিত হয় মানববন্ধকারীদের কণ্ঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা নির্দোষ মইনুলের মুক্তির জন্য দুই দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দেন এবং যৌক্তিক দাবি পূরণ না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের মত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২০মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ সেশনের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুল ইসলাম আবিরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে কটুক্তি করার অভিযোগ করে শ্যামল চন্দ্র দাস নামে এক ভুয়া আইডি। পূর্ণাঙ্গ ঘটনা বিশ্লেষণ করার পর মঈনুল ইসলাম আবিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কটুক্তি এবং শ্যামল চন্দ্র দাস নামের ফেইক আইডির চক্রান্ত উন্মোচন হয়। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মইনুল ইসলাম আবিরকে তথ্য প্রযুক্তি মামলায় আটক দেখানো হয়। কিন্তু ঘটনার দেড় মাস পার হলেও নিরপরাধ আবিরের মুক্তি না মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।