ক্যাম্পাস জাতীয়

কুবির মেধাবী মুখ এন হোসাইন

সাজ্জাদ বাসার: ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ। তরুণ গবেষক হিসেবে সবাই তাকে চেনে। ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন চিন্তা আর গবেষণার প্রতি তার আগ্রহ প্রচুর। তরুণ এই গবেষকের শুধু গবেষণার খ্যাতিই নয় পাশাপাশি তিনি একজন উপস্থাপক, সংগঠক ও খেলোয়াড়।

বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১১তম আবর্তনের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী এ এম নূর উদ্দীন হোসাইনের কথা।

চাঁদপুরের সন্তান এন হোসাইন। বেড়ে উঠেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাঁসা গ্রামে। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া এন হোসাইনের চোখেমুখে আকাশছুঁয়ার স্বপ্ন।

ক্যাম্পাসে তরুণ গবেষক হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি, পেয়েছেন অসম্ভব কিছু স্বীকৃতিও। ইতোমধ্যে কুবির এই শিক্ষার্থী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে UNDP তরুণ গবেষক হিসেবে পেয়েছেন বড় তহবিলও। স্থানীয় সরকারের অধীনে “Training Need Assessment(TNA)
For Elected Representatives of Union Parishad in Bangladesh” এর উপর কাজ করছেেন।

পরিবারে তিন ভাইয়ের মাঝে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাইও পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে গবেষণায় তার একাদশ প্রকাশনা চলছে। journal of political science, begum rokeya university, rangpur ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান জার্নাল, গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় তার জার্নাল। তার বাবা একজন শিক্ষক।

সবার সাথে সবার যোগাযোগ ও নিজেদের দক্ষতার আদলে গড়ে তুলতে একে অপরে সহযোগী হওয়ার বিকল্প কিছু হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি। তবে, তার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছুই এইচএসসিতে করা সম্ভব হয়নি।

তবে অনার্স শুরুর আগেই তার স্বপ্ন ছিল আনডার গ্রাচুয়েশনে স্কলারশিপে দেশের বাহিরে পড়ার। এজন্য তিনি সরকারী পাসপোর্ট এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধিনে IELTS সহ অনেক ধাপই এগিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের শুরু থেকে হলের গণরুমে থাকা আর ছাত্ররাজনীতির সাথে নিজেকে জড়ানোর ফলে সেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন বলে তিন জানান।

কুবির লোকপ্রশাসন ১১তম ব্যাচের ফাস্টবয়সহ প্রথম বর্ষেই বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিভাগের সহযোগী সংগঠন পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন এসোসিয়েশনের ছিলেন এক্সিকিউটিভ মেম্বার। এছাড়া “ওয়াইসিআই-কুবি-চাপ্টার” এর যুগ্ম আহ্বায়ক, রোবার স্কাউটসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত।

সদ্য দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করা এই শিক্ষার্থী হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইলি স্টার পত্রিকার সৌজন্য প্রতিনিধি। এছাড়া এইচএসসি বোর্ড শিক্ষাবৃত্তিসহ উচ্চশিক্ষার জন্য পাচ্ছেন বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংক থেকে নানা স্কলারশিপ। নিয়েছেন গবেষণার উপর বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণও। এছাড়াও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে Bechelor of Theology and Islamic Studies এর উপর ডিগ্রি ফাইনাল বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন।

এত কম বয়সে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই সফলতার পিছনে কেউ অনুপ্রেরণা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলোকে আমি সফলতা হিসেবে দেখছি না। তবে আমার অনুপ্রেরণা ও আদর্শ এককথায় আমার শিক্ষা গুরু আমার বড় ভাই। উনি এখনও আমাকে হাতেকলমে সব বুঝিয়ে দেন। জীবন সব ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলো তাকেই উৎসর্গ করতে চাই।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনাসহ পেয়েছেন খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার। স্নাতক তৃতীয় বর্ষের এন হোসাইন ভবিষ্যত ক্যারিয়ার হিসেবে কি ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদর্শ ছাত্র আর সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে চাই। আমার কাজগুলো আমার ক্যারিয়ার এনে দিবে। কাজ করতে চাই সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে।