জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

কুবিতে সরস্বতী পূজা উদযাপিত

কুবি প্রতিনিধি: যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয়বোধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পালিত হয়েছে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব সরস্বতী পূজা।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় পূজা অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে সরস্বতী পূজার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হিন্দু শাস্ত্রমতে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর দয়া প্রার্থনা করে “সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে, বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে”-এ মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে স্থাপিত অস্থায়ী মণ্ডপে বানী বন্দনা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী  সঞ্জয় দাস বলেন, সরস্বতী দেবী হলো জ্ঞান, বিদ্যা, সংস্কৃতি  ও শুদ্ধতার দেবী। জ্ঞানার্জননের মাধ্যমে সকল অন্ধকার দূরীকরণে সরস্বতী মায়ের পূজা অর্চনা করা হয়। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ দেশের সর্বস্তরে জ্ঞান ও শান্তিময় পরিবেশ বিরাজমান থাকুক। পূজা পর্ব শেষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সকলের জন্য নিরাপদস্থল এই আমাদের মাটি। আবহমান কাল ধরে এখানে সকল ধর্মের লোকজন ভাই-ভাই হয়ে নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসন, উৎসব পালন করে এসেছে। আমরা আশাবাদী, সকলের সহযোগিতায় সেই অসাম্প্রদায়িকতার সেই ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী দিনেও।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তবে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে পূজায়  উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভা পরবর্তী প্রসাদ বিতরণ শেষে সনাতনী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ ও জমকালো নাচ-গানে মাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

জুমবাংলানিউজ/একেএ