জমিজমা সংক্রান্ত বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

কিশোরগঞ্জে বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ, ১৫ পরিবার অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জমো. শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলায় পূর্ব শক্রতার জের ধরে যাতায়াতের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে ১৫ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর বালাপাড়া বড়বাড়ি গ্রামের ওই পরিবারগুলো এ ঘটনায় তিনদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর পক্ষে  মজনু মিয়া  পাঁচজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা ওই রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য  ব্যাবহার করে আসছিল। গত বছরের ২১ শে আগস্ট বালাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোশারুল ইসলাম রাস্তাটির প্রবেশপথটি পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে এর পবেশমুখে পাকাবাড়ি নির্মাণ করে। পরে মজনু মিয়াসহ ১৫টি পরিবার মোশারুলকে চলাচলের রাস্তার উপর বাড়ি নির্মাণ করতে বাধা দিলে তার বাবা মোহাম্মদ আলী, চাচা আজিজুল, শ্বশুর রশিদুলসহ ওই পরিবারের লোকেরা মজনু মিয়াসহ অন্য পরিবারগুলোর উপর নির্যাতন শুরু করে। ওই সময় পরিবারগুলোর পক্ষে মজনু মিয়া পাঁচজনকে আসামি স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু কয়েকদিন পর মোশারুল আবারো রাস্তাটি বন্ধ করে দিলে এলাকাবাসী ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ দাবি করে। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে সালিসের মাধ্যমে রাস্তা বের করে দেন। কিন্তু আবারো গত ২৮ মার্চ বুধবার তৈয়ব আলী, আজিজুল, হামিদুল ও শফিকুল গংরা বাঁশের বেড়া দিয়ে  রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এতে করে এলাকার ১৫ টি পরিবার গত তিনদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে।

অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা।  মোশারুল আজিজুল, শফিকুল হামিদুল, রশিদুল ও তৈয়ব আলীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে গেছি।

এ বন্দিদশা থেকে নিষ্কৃতি পেতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

মোশারুল ও আজিজুল বলেন, ‘আমাদের বাপ দাদারা দয়া করে তাদের নিজের জমির উপর দিয়ে রাস্তা করে দিয়েছিল।  আমরা ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করেছি।’

পুটিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবার ওই গ্রামে গিয়ে সালিস করে দিয়েছি কিন্তু কেউ কারো কথা শোনেনা।’

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, ‘কেউ রাস্তায় বেড়া দিয়ে কারো পথরোধ করতে পারবেনা। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। কেউ যদি  আবারো রাস্তা বন্ধ করে দেয় তাহলে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই